নাকে স্প্রে করা ভ্যাকসিন ক’রোনায় বেশি কার্যকর’।

বিশ্বের ১ কো’টির বেশি মানুষ ক’রোনা ভা’ইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে আগামী কয়েক মা’সের মধ্যেই আরো কয়েক কোটি মানুষ আ’ক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বি’শ্ববাসী এখন অনেকটাই তাকিয়ে রয়েছে ভ্যাকসিনের দিকে। যুক্তরাজ্যের শীর্ষ ফার্মাসিউটিক্যাল কো’ম্পানি আসথ্রাজেনিকার হাত ধরে তৈরির পথে অক্সফোর্ডের বি’জ্ঞানীদের আবিষ্কৃত ভ্যাকসিন।

সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এ বছরের আগস্ট-সেপ্টেম্বরের মধ্যেই তা বা’জারে আশার সম্ভাবনা রয়েছে।

অ’ক্সফোর্ডের তৈরি ভ্যাকসিনটি ইনজেকশনের মাধ্যমে মানবদেহে প্র’য়োগ করা হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনও তৈরি করেছে ইনজেকশন মাধ্যমে প্রয়োগ করার একটি ভ্যাকসিন।

দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ই ইনজেকশনধর্মী ভ্যাকসিন তৈরি করলেও উ’ভয় প্রতিষ্ঠানের বি’জ্ঞানীরা মনে করেন, ভ্যাকসিনটি ইনজেকশনের চেয়ে ইনহেলার কিংবা নাকে স্প্রে করলেই ক’রোনা ভা’ইরাসের বিরুদ্ধে বেশি কার্যকর হবে।

ঐ বি’জ্ঞানীরা বলছেন, ইনহেলার কিংবা নাকে স্প্রে করা হলে ভ্যাকসিনটি সরাসরি ফুসফুসে পৌঁছে মানুষকে ক’রোনা ভা’ইরাস থেকে সুরক্ষা দেবে।

তাদের মতে, ক’রোনা ভা’ইরাস যেহেতু ফুসফুসের ওপর বেশি আক্রমণ করে, তাই সেখানেই এর যুদ্ধটা বেশি লড়তে হবে।

দুটি বিশ্ববিদ্যালয়েরে পক্ষ থেকেই বর্তমানে করোনা ভা’ইরাস প্রতিরোধী ইনজেকশনধর্মী ভ্যাকসিন তৈরির কাজ করা হচ্ছে। ই’নজেকশনের মাধ্যমে সাধারণত শরীরের পেশিতে প্রয়োগ করা হয় ভ্যাকসিন।

বর্তমানে এই প’দ্ধতিতেই মানবদেহে করোনার ভ্যাকসিন প্রয়োগ করে পরীক্ষা চালানো হচ্ছে।

না’কে স্প্রে করা বা ইনহেলারের মা’ধ্যমে প্রয়োগ করার ভ্যা’কসিনের সুবিধা হিসেবে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন উভয় প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীদের যুক্তি—শরীরের অভ্যন্তরের বিভিন্ন অঙ্গ যেমন—ফু’সফুস ও শ্বাসনালির বহির্ভাগ মিউকাস মেমব্রেনের তৈরি সু’রক্ষা টিস্যু দ্বারা আবৃত থাকে।

এছাড়া নাক ও মুখের প্রান্তভাগ যেখানে সাধারণত পরজীবীদের আ’ক্রমণের শিকার হয়, সেখানে এ ধরনের স্প্রে ভ্যাকসিনটি প্রয়োগ করা হলে তা ক’রোনা ভা’ইরাসের বিরুদ্ধে খুবই কার্যকর হবে।

শরীরের অভ্যন্তরে প্রবেশের আগেই ভ্যা’কসিনটি কোভিড-১৯ শনাক্ত করে আটকে দিতে সক্ষম হবে। সাধারণত বা’চ্চাদের ই’নফ্লুয়েঞ্জার ক্ষেত্রে এ ধরনের ইনহেলার নাকে স্প্রে করা হয়।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের তৈরি ভ্যাকসিনটি ইতিমধ্যে ব্রিটেন, ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকার দে’শগুলোর ১০ হাজার মানুষের ওপর প্রয়োগ করা হচ্ছে। ব্রাজিলের সাও পা’ওলোয় ২ হাজার এবং রিও ডি জেনিরোয় ১ হাজার স্বেচ্ছাসেবীর দেহে প্রয়োগ করা হচ্ছে অক্সফোর্ডের তৈরি করা ভ্যাকসিনটি।

আর গত সপ্তাহেই প্রথম স্বেচ্ছাসেবীর শরীরে প্রয়োগ করা হয়েছে ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের সম্ভাব্য ভ্যাকসিনটি। প’রীক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন ৩০০ স্বাস্থ্যবান স্বেচ্ছাসেবী। ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন জানিয়েছে, তাদের সম্ভাব্য ভ্যা’কসিন পশ্চিম লন্ডনে এক স্বেচ্ছাসেবীর ওপর প্রয়োগ করা হয়েছে।

ঐ স্বে’চ্ছাসেবীর শারীরিক অবস্থা সর্বশেষ পর্যবেক্ষণ পর্যন্ত ভালো ছিল; কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।

গবেষকেরা ব’লছেন, ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের ভ্যাকসিনটি যদি নিরাপদ বলে প্রমাণিত হয় এবং স্বেচ্ছাসেবীদের শরীরে রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার প্রত্যাশিত সাড়া পা’ওয়া যায়, তাহলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ আরো বড় পরিসরে প’রীক্ষা শুরু হবে। এর আগে ভ্যাকসিনটি প্রাণীর ওপর পরীক্ষা করে নিরাপদ বলে প্রমাণিত হয়েছে।

ই’ম্পেরিয়াল কলে’জ লন্ডনের বিজ্ঞানীদের দাবি, ইউরোপকে দ্বিতীয় দফা করোনা সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে ভূমিকা রাখবে তাদের তৈরি ভ্যাকসিনটি।

Facebook Comments
custom_html_banner1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *