সাংবাদিক প্লাবনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: দৈনিক যুগান্তরের স্টাফ রিপোর্টার রেজাউল করিম প্লাবন ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে করা নারী নির্যাতন, যৌতুক দাবি ও ভ্রুণ হত্যা মামলা প্রত্যাহার চেয়ে মানববন্ধন করেছে চিলমারীবাসী। মামলার বাদী সমকালের সাংবাদিক সাজিদা ইসলাম পারুলকে অসৎ ও প্রতারক দাবি করে বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

২৯ জুন (সোমবার) দুপুরে চিলমারী উপজেলা পরিষদের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে মামলা প্রত্যাহার ও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি জানানো হয়। মানববন্ধনে চিলমারী উপজেলার বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

সাংবাদিক প্লাবনের বিরুদ্ধে করা নারী নির্যাতন মামলাকে আজগুবি দাবি করে মানবন্ধন থেকে জানানো হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে যখন আইনের শাসন বিরাজ করছে, সাধারণ মানুষ যখন ন্যায় বিচার পাচ্ছেন ঠিক তখন কিছু কুচক্রীমহল আইনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে প্লাবন ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। আর এতে কিছু চিহ্নিত হলুদ সাংবাদিক সত্য মিথ্যা যাচাই না করে সচেতনার আড়ালে অন্ধের মত মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করে যাচ্ছেন। এসময় তারা অন্যায়কে সমর্থন না করে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশন করে জাতিকে আসল ঘটনা জানাতে সাংবাদিকদের অনুরোধ করেন।

গত ৫ মে সাংবাদিক সাজিদা ইসলাম পারুলের চিলমারী আগমনের ঘটনার বর্ণনা করে রমনার ৯নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও দক্ষিণ খাওরিয়া স্কুল এন্ড কলেজের প্রভাষক রব্বানী বিশ্বাস বলেন, সেদিনের পুরো ঘটনার স্বাক্ষী ছিলাম আমি। প্লাবনের বাড়ির সামনের রাস্তায় ৫ থেকে ৭ মিনিট দাড়িয়ে থেকে ফিরে যান সাজিদা ইসলাম পারুল। রাগারাগি, মারামারি, যৌতুক চাওয়া তো দুরের কথা, পারুলের সামনে এসে কথাও বলেননি কেউ। অথচ এই ঘটনায় মিথ্যা বানোয়াটভাবে প্লাবনের দুই ভাই ও মা-বাবাকে আসামী করা হয়েছে। ঘটনার দিন প্লাবনের ছোট ভাই এসএম নিজাম উদ্দিন বাড়িতে না থাকলেও তাকে আসামী করে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের এক সাংবাদিক বলেন, গত ৫ মে সাজিদা ইসলাম পারুলের চিলমারীর প্লাবনের বাড়িতে আসার উদ্দেশ্য পরিষ্কার ছিল না। আমরা কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাব ও প্লাবনের অভিভাবকদের সঙ্গে আলাপ করে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম মেয়েকে আর ঢাকায় যেতে দেব না। বিষয়টি সমকাল কর্তৃপক্ষকেও জানিয়েছিলাম। ৬ মে সকালে প্রেসক্লাবে বধুবরণ ও মোটরবাইক বহরযোগে প্লাবন-পারুলসহ চিলমারীতে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অফিসের ফোন পেয়ে পারুল আমাদের কাউকে না জানিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। সংসার করতে ইচ্ছুক কোনো মেয়ে এমনটি করতে পারে না, কারো প্ররোচণারও শিকার হতে পারে না।

মানববন্ধনে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়, গত ২ এপ্রিল দৈনিক যুগান্তরের সাংবাদিক রেজাউল করিম প্লাবন ও দৈনিক সমকালের সাংবাদিক সাজিদা ইসলাম পারুল বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

বিয়ের অল্পদিনের মধ্যে পারুলের একাধিক বিয়ের খবর বেরিয়ে আসে। ২০০৯ সালের ৬ নভেম্বর বগুড়া সদরের জুলফিকার হোসেন সোহাগ নামের একজনকে বিয়ে করেন। অনৈতিক সম্পর্কের কারণে সে সংসার বেশিদিন টেকেনি। সম্প্রতিক সময়ে একজন রিপোর্টারকে বিয়ে করতে না পেরে ট্যাবলেট খেয়ে রাস্তায় পড়ে ছিলেন পারুল। এছাড়া একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে উচ্ছঙ্খল জীবন যাপন, ছোট আপা-বড় আপার কথা বলে রাতে নিজ বাসার বাইরে অবস্থান, রাত জেগে বিভিন্ন জনের সঙ্গে ফোনালাপ ও ফেসবুক চ্যাটিং ও সেখানে আপত্তিকর এসএমএস প্লাবনকে বিমর্ষ ও হতাশাগ্রস্ত করে তোলে।

এতৎসত্ত্বেও রেজাউল করিম প্লাবন স্বাভাবিক সংসার জীবনে ফিরে আসতে পারুলকে পরামর্শ দিয়ে বারবার সতর্ক করেন। কিন্তু সে ব্যক্তিগত বিষয়ে নাক না গলানোর কথা বলেন প্লাবনকে। তার মধ্যে পরিবর্তনের কোনো আভাস না পেয়ে তাকে শান্তিপূর্ণ বিচ্ছেদের কথা বললে পারুল প্লাবনের ওপর ভীষণ ক্ষিপ্ত হন এবং অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন।

উপায়ান্তর না দেখে গত ৫ মে প্লাবন তার স্ত্রী পারুলকে ডিভোর্স লেটার পাঠায়। বিষয়টি পারিবারিক হলেও আক্রমনাত্মকভাবে নেন দৈনিক সমকাল কর্তৃপক্ষ। সেদিনই সাজিদা ইসলাম পারুল তার কর্মস্থল দৈনিক সমকালের সহযোগীতায় মামলার গ্রাউন্ড তৈরি ও প্লাবনের বৃদ্ধ বাবা-মা ও ভাইদের ফাঁসাতে কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। সেখানে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটলেও ঢাকায় আসার ৬ দিন পর হাতিরঝিল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ও ভ্রুণ হত্যা মামলা দায়ের করেন পারুল। মামলা নং-০৩, তারিখ: ১১/০৫/২০ ইং। মামলা দায়েরের পর থেকেই দৈনিক সমকাল কর্তৃপক্ষ সাংবাদিকদের দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশের আইজি, ডিএমপি কমিশনার, তেজগাঁও জোনের ডিসি, হাতিরঝিল থানার ওসি, রংপুর বিভাগের পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশের এসপি ও চিলমারী থানার অফিসার ইনচার্জকে আসামী গ্রেফতারে চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন। এনিয়ে সমকাল পত্রিকায় মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করে প্রশাসনকে বিব্রত ও প্লাবনকে অসম্মানিত করা হয়েছে। এরইমধ্যে বিভিন্ন মাধ্যমে শোনা যাচ্ছে -কোনো রকম তদন্ত ছাড়াই বাদীর পক্ষে চুড়ান্তভাবে মিথ্যা প্রতিবেদন দিতে সমকালের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নিজস্ব সাংবাদিক দিয়ে হাতিরঝিল থানার ওসিকে অনবরত চাপ প্রয়োগ করে যাচ্ছেন।

বিষয়টি সুরাহা করতে দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলমসহ শীর্ষ সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ সমঝোতার উদ্যোগ ও তাতে বাদী-বিবাদীর সম্মতি থাকলেও সমকাল কর্তৃপক্ষেরে সহযোগীতা না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত তা সফল হয়নি।

Facebook Comments
custom_html_banner1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *