1. ashrafali.sohankg@gmail.com : aasohan :
  2. alireza.kg2014@gmail.com : Ali Reza Sumon : Ali Reza Sumon
  3. hrbiplob2021@gmail.com : News Editor : News Editor
বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১, ০৯:০৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:-
জাতীয় স্লোগান হিসেবে ‘জয় বাংলা’ ব্যবহারের নির্দেশঃ হাইকোর্ট কিশোরগঞ্জে কোরবানির ডিজিটাল পশুর হাট কুড়িগ্রাম জেলা যুবলীগের উদ্যোগে অন্ধ প্রতিবন্ধীদের মাঝে নগদ টাকা ও খাদ্য বিতরণ কুড়িগ্রাম জেলা ছাত্রলীগের উদ্যোগে বিনামূল্যে শাক-সবজি বাজার উ‌দ্বোধন করিমগঞ্জ থেকে গাঁজা ও নগদ অর্থ’সহ মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে র‍্যাব আশরাফ আলী সোহান একজন তরুন উদ্যোক্তা সব্যসা‌চী লেখক ও ক‌বি ‌সৈয়দ শামসুল হ‌কের সমাধী‌তে কুড়িগ্রাম জেলা ছাত্রলী‌গের শ্রদ্ধা বাংলা’র শিক্ষক গাইছেন হিন্দিতে! কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহবায়ক দানিস আর নেই হিয়া ইলেক্ট্রনিক্সকে অবাঞ্ছিতকরন প্রসঙ্গে কিশোরগঞ্জে বিশাল আকৃতির ষাঁড় নাম তার ভাটির রাজা; কুরবানিতে বিক্রয়ের জন্য প্রস্তুত

ঈদগাহের ওয়াকফকৃত জমিতে মসজিদ নির্মাণ জায়েজ নেই

রিপোর্টার:
  • সর্বশেষ আপডেট : রবিবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
  • ১৮৪ সংবাদটি দেখা হয়েছে

হাফেজ মাওলানা যুবায়ের আহমাদ:
মসজিদ প্রতিষ্ঠা নিশ্চয় ভালো। কিন্তু মসজিদ নির্মাণ করতে হলো তো ইসলামের নিয়ম মেনেই করতে হবে। যেখানে মসজিদ নির্মাণ ইসলামে অনুমোদিত নয় সেখানে মসজিদ বানানো কি ঠিক হবে? সবকিছু জোরে হয় না। মসজিদ ধর্মীয় উপাসনালয়। এটা হতে হবে ধর্মীয় নিয়ম মেনেই। মডেল মসজিদ প্রকল্পটি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফতোয়াই বলছে ঈদগাহের জন্য ওয়াকফকৃত স্থানে মসজিদ-মাদরাসা প্রতিষ্ঠা জায়েজ নেই। ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ -এর ‘ওয়াকফ সংক্রান্ত মাসআলা-মাসায়েল’ নামক গ্রন্থের ৩৬ নং পৃষ্ঠায় লেখা হয়েছে, ‘ঈদগাহের জন্য ওয়াকফকৃত সম্পত্তিতে মসজিদ মাদরাসা নির্মাণ জায়েয নয়’।

যেখানে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফতোয়াই বলছে, ওয়াকফকৃত ঈদগাহে মসজিদ প্রতিষ্ঠা জায়েজ নেই সেখানে কী করে শোলাকিয়া মাঠের ভেতরে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মডেল মসজিদ নির্মাণ করছে কর্তৃপক্ষ? আড়াইশ বছরের ঐতিহ্যবাহী শোলাকিয়া ঈদগাহের মূল আয়তনের ভেতরে নির্মাণ করা হচ্ছে মডেল মসজিদ ও কমপ্লেক্স। কিশোরগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এ ঈদগাহ সম্প্রসারণের। মডেল মসজিদ নির্মাণের ফলে সম্প্রসারিত না করে সংকুচিত হবে। বিশাল কমপ্লেক্সটি ঈদগাহের ৪৩ শতাংশ স্থান দখল করে ফেলবে। ১/২ শতাংশ নয়, ৪৩ শতাংশ। ৪৩ শতাংশ জায়গা চলে গেলে আর থাকে কী?

একদিকে ঈদগাহে মসজিদ নির্মাণ নাজায়েজ, অন্যদিকে আড়াইশ বছরের ঐতিহ্যের ঈদগাহের আয়তন ছোট হবে বলে কিশোরগঞ্জের সর্বম্তরের জনগণের দাবি, এ মডেল মসজিদ যেন মাঠের ঠিক পশ্চিমে থাকা ইচ্ছাগঞ্জ গরুর হাঁটে স্থানান্তর করা হয়। এতে ঈদগাহের আয়তনও অক্ষুণ্ণ থাকে, মডেল মসজিদও হয়।

শরিয়াহ আইন। (ফতোয়া) ও কিশোরগঞ্জবাসীর দাবি উপেক্ষা করে শোলকিয়া মাঠের ভেতরেই যদি মসজিদ কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হয়, পরবর্তীতে হয়তো এটি আফসোসের কারণ হবে। মডেল মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। তিনি যদি জানতে পারেন যে, তার প্রতিষ্ঠিত মডেল মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে এমন এক স্থানে, যেখানে মসজিদ নির্মাণ ইসলাম অনুমোদন করে না তাহলে কি তিনি খুশি হবেন? আমার মনে হয় না।

কেউ কেউ বলছেন, এতদিন পর কেন বিরোধিতা? আগে কেন কেউ নিষেধ করল না। আমার মনে হয়, প্রশ্নটা উল্টো হতে পারে। মসজিদ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। ধর্মীয় নিয়ম অনুযায়ী ঈদগাহের ভেতরে মসজিদ প্রতিষ্ঠা জায়েজ কিনা তা আগেই নির্মাণ কমিটির জেনে নেয়া দরকার ছিল। বিজ্ঞ আলেমদের পরামর্শ নেয়া উচিৎ ছিল। তা কেন আগে করা হয়নি?

যেসব জেলায় শোলাকিয়ার মতো মাঠ নেই, সেখানে কি মডেল মসজিদ নির্মাণ হচ্ছে না? অবশ্যই হচ্ছে। জায়গা অধিগ্রহণ করে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কিশোরগঞ্জেও এমনই হোক! কিশোরগঞ্জবাসীর দাবি, যেন গরুর হাঁট স্থানান্তর করে এ স্থানে মসজিদ নির্মাণ করা হয়। গরুর হাঁট স্থানান্তর করা শহরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবিও। কারণ শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় গরুর হাঁট থাকায় একদিকে যেমন পরিবেশ নষ্ট হয় অন্যদিকে হাঁটের দিন এর কারণে শহরের ট্রাফিক জ্যামও বেড়ে যায়। গরুর হাঁট এখান থেকে সরিয়ে নিলে ঐতিহ্যবাহী এ মাঠের পবিত্রতাও রক্ষা পাবে। কারণ যখন ইচ্ছাগঞ্জ বাজারে গরুর হাঁট বসে, তখন ক্রেতা-বিক্রেতাদের কেউ কেউ যাচিত কিংবা অযাচিতভাবে মাঠের ভেতরে গরু নিয়ে বাঁধেন বিক্রির জন্য। ফলে গরুর বিষ্টায় মাঠের পবিত্রতা নষ্ট হয়।

গরুর হাঁট সরালে কিছুই সমস্যা হবে না। ইচ্ছাগঞ্জ গরুর হাঁট দিয়ে কিশোরগঞ্জ পরিচিত হয় না। বরং এখান থেকে গরুর হাঁট উপযুক্ত স্থানে সরিয়ে নিয়ে সেখানে মসজিদ ও কমপ্লেক্স নির্মাণ করলে একদিকে যেমন মাঠের ঐতিহ্য রক্ষা হবে আবার মাঠের আয়তনও বাড়বে। মডেল মসজিদ আমরা চাই। আড়াইশ বছরের মাঠের ঐতিহ্য রক্ষা ও শরিয়াহ আইন অন্তরায় হওয়ায় আমরা কেবল স্থানান্তর চাই।

শোলাকিয়া ঈদগাহ সবার। এর ভেতরে মডেল মসজিদ স্থাপনের বিরোধিতা যারা করছেন, তারা শোলাকিয়ার প্রতি বুকভরা দরদ নিয়েই করছেন। তাদের প্রতিপক্ষ না ভেবে তাদের দাবি আন্তরিকতার সঙ্গে কর্তৃপক্ষ ভেবে দেখবেন বলে আশা করি। মাননীয় সাংসদ, কিশোরগঞ্জের সম্মানিত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কর্মকর্তারা গুরুত্বের সঙ্গে চেষ্টা করলে ইতিবাচক সমাধান হবে আশা করি। তারা স্মরণীয়ও হয়ে থাকবেন। আমরা চাই, শোলাকিয়ার আয়তনও অক্ষুণ্ণ থাকুক, মডেল মসজিদও হোক!

# হাফেজ মাওলানা যুবায়ের আহমাদ,

ইসলামী কলাম লেখক।

খবরটি পছন্দ হলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরও খবর

All rights reserved © 2021 Newsmonitor24.com
Theme Customized BY IT Rony