উলিপুরে অপহৃত যুবক উদ্ধার, এরশাদ মেলেটারী সহ আটক ৪ জন

এজি লাভলু, স্টাফ রিপোর্টার

কুড়িগ্রামের উলিপুরে প্রেমের মাধ্যমে বিয়ে, শশুরবাড়ী বেড়াতে এসে অপহরণ। ৯৯৯ এ ফোন করে অপহৃত যুবক উদ্ধার। এ ঘটনায় জড়িত চারজনকে আটক করেছে উলিপুর থানা পুলিশ।

জানা যায়, ২৪ মার্চ রাতে উলিপুর উপজেলার ধরনীবাড়ি ইউনিয়নের মাদারটারী গ্রামের ইউসুফ আলীর মেয়ে সুলতানা ওরফে ইসমোতারা বেগমের (২৩)’র ঢাকায় গার্মেন্টস চাকুরি করার সুবাদে প্রেমের সম্পর্কে সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ উপজেলার সরাই হাজিপুর গ্রামের আফছার আলীর পুত্র রাকিবুল ইসলামের (২৫) সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। স্ত্রী ইসমোতারা বাবার বাড়িতে থাকায় রাকিবুল শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে আসেন। ২৪ মার্চ দুপুরে স্থানীয় এরশাদুল হক দলবল নিয়ে তাদের বাড়িতে এসে তাদের বিয়ের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রাকিবুলকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। এসময় তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে ফাঁকা স্টাম্পে সই করা সহ মুক্তিপণের টাকা দাবী করে। পরে ব্যর্থ হয়ে ওই দিন গভীর রাতে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ব্রহ্মপুত্র নদে নিয়ে যায়।

পরে উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের পালের ভিটা নামক স্থানে রাকিবুলের আত্মচিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে দুর্বৃত্তদেরকে আটক করে ৯৯৯ এ ফোন দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ধরনীবাড়ি ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের ছনসল ইসলামের পুত্র চাকরিচ্যুত সেনা সদস্য এরশাদুল হক (৪৪) একই ইউনিয়নের মাদারটারী গ্রামের আব্দুল মান্নানের পুত্র মাহাবুর (৩২), আব্দুল লতিফের পুত্র রাশেদুল ইসলাম (৩০) ওমর আলীর পুত্র আব্দুর মান্নার (৩৫) কে আটক থানায় নিয়ে আসে। এসময় মাদারটারী গ্রামের আব্দুর রহিম (সাধু) মিয়ার পুত্র পলাশ মিয়া (২৮) পালিয়ে যায়।

এ ব্যাপারে রাকিবুলের পিতা আফছার আলীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ২৪ মার্চ দুপুর থেকে আমার ছেলের মোবাইল ফোন দিয়ে একজন কল করে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবী করেন। টাকা দিতে অপরাগতা জানালে পরবর্তীতে আমার ছেলেকে মারধর করা অবস্থায় ফোন দিয়ে ছেলের কান্নাকাটি শোনায়। পরে বিষয়টি রায়গঞ্জ থানায় অবগত করি।

গ্রেফতারকৃত এরশাদের বিরুদ্ধে ইতিপুর্বে স্থানীয় মানুষদের ঘড়বাড়ি ভাংচুর, জমি দখল, চাকুরীর নামে প্রতারনা, মাদারটারী এলাকার মুকুল মাস্টারের ছেলে সুমন (পুলিশ সদস্য) তাকে আটকের বিষয়টি এখনও আলোচনায়। স্থানীয় এক যুবকের বৃদ্ধ বাবা মা সহ তাকে মারধরের অভিযোগে থানায় এজাহার হয়েছিলো। তার পরিবারে এক গৃহকর্মী কিশোর ছেলের আত্মহত্যার বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ যায়নি। যদিও আত্মহত্যা হওয়া কিশোরের বাবা মা কোন অভিযোগ করতে রাজি হননি।

এরশাদ মেলেটারী স্থানীয় পাশের ওয়ার্ডের এক মেম্বার সহ পুরো ইউনিয়নে তরুণ ও কিশোরদের নিয়ে কিশোর গ্যাং তৈরি করে এধরনের প্রভাব বিস্তার করার অভিযোগ এলাকার মানুষদের। তাদের দাবী অভিযোগ প্রচুর থাকলেও অর্থ প্রভাব ও শক্তির ভয়ে কেউ কিছু বলার সাহস পান না। উল্লেখ্য এই এলাকারাসীর বেশীর ভাগ হিন্দু জনগোষ্ঠীর হওয়ায় প্রশাসনের তরফ থেকে গোয়েন্দা নজরদারী ও তদন্ত করলে অভিযোগগুলোর সত্যতা বেরিয়ে আসবে বলে অনেকেরই ধারনা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক যুবলীগ নেতা বলেন, খুলনার এরশাদ শিকদারের মত কর্মকান্ড করে বেড়াই তার পেশা।

অপহরনের বিষয়ে উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আটককৃত আসামীদের হাজতে পাঠানো হয়েছে।

Facebook Comments
custom_html_banner1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *