উলিপুরে পিটিয়ে হত্যা; ৩ জন আটক

এজি লাভলু, স্টাফ রিপোর্টার

কুড়িগ্রামের উলিপুরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাকে বাঁচাতে স্ত্রী ও সন্তান এগিয়ে আসলে তাদেরকেও এলোপাতারী মারপিট করে গুরুত্বর আহত করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদি হয়ে থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ ৩ জনকে আটক করেন। ঘটনাটি ঘটেছে, যাদুপোদ্দার গ্রামে।

নিহতের স্বজন ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ৯ মে (শনিবার) উপজেলার ধামশ্রেনী ইউনিয়নের যাদুপোদ্দার গ্রামের আনছার আলীর পুত্র মুকুল মিয়ার (৪২) সাথে প্রতিবেশি সাহাব উদ্দিনের পুত্র মিশন মিয়ার (২৮) ক্রিকেট খেলার বল শরীরে লাগার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাকবিতন্ডা হয়। এরপর থেকে সাহাব উদ্দিনের পক্ষের লোকজন মুকুল মিয়াকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছিলেন। এরই জের ধরে ১০ মে (রবিবার) বিকেলে উলিপুর বাজার থেকে মুকুল মিয়া বাড়ি ফেরার পথে সাহাব উদ্দিনের বাড়ির সামনে পৌঁছিলে তার পক্ষের লোকজন দলবদ্ধ হয়ে মুকুল মিয়ার উপর হামলা চালায়। খবর পেয়ে মুকুল মিয়ার স্ত্রী ও পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধারের জন্য এগিয়ে আসলে তাদেরকেও এলোপাতারী মারপিট করে গুরুত্বর আহত করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন আহতদের মুমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। ওই দিন রাত দুইটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মুকুল মিয়া মারা যান। তার মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা সাহাব উদ্দিনের বাড়ি-ঘর ভাংচুর করে লুটপাট চালায়। বর্তমানে নিহতের স্ত্রী বিউটি বেগম (৩৫) ও পুত্র বিদ্যুৎ মিয়া (২০) গুরুত্বর আহত অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনায় ১১ মে (সোমবার) দুপুরে নিহতের স্ত্রী বাদি হয়ে নামীয় ১৬ জন ও অজ্ঞাতনামা ১০/১১ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করলে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ সাহাব উদ্দিনের স্ত্রী বকুল বেগমসহ ৩জনকে আটক করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ মাঈদুল ইসলাম বলেন, গুরুত্বর আহত অবস্থায় মুকুল মিয়াকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে মাথায় অন্ত রক্ত ক্ষরণের কারণে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই তার মৃত্যু হয়।

উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোয়াজ্জেম হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিহত মুকুল মিয়ার মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। বাকী আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

Facebook Comments
custom_html_banner1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *