উলিপুরে ৮৭ কেজি ত্রাণের চাউলসহ একজন আটক

এজি লাভলু, স্টাফ রিপোর্টার

১৩ এপ্রিল রাত ৯:৩০ ঘটিকায় কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার থেতরাই বাজারের দোকানদার ময়ফুল ইসলাম (৪৫) পিতা তছলিম উদ্দিন থেতরাই এর দোকান হতে সরকারিভাবে বিতরণকৃত জি আর চাউল ৮৭ কেজি ও আলু উদ্ধার করা হয়েছে এবং বর্ণিত দোকানদার এর বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

জানা যায়, করোনাভাইরাস সংক্রমন ঠেকাতে লকডাউন বা ছুটি ঘোষণার ফলে কর্মহীন ও দুস্থদের খাদ্যসংকট মোকাবেলায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বরাদ্দের ত্রাণের চাউল বিতরণ নিয়ে থেতরাই ইউনিয়নে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। ৩/৪ টি স্লিপ নিয়ে একেকজন মধ্যসত্বভোগী ব্যবসায়ীদের হয়ে চাউল, আলু সংগ্রহ করতে থাকেন। দুপুর ৩ টার পর এক শ্রেনীর মহতি ও প্রভাবশালীদের মধ্যে অভ্যন্তরীন কোন্দল সৃষ্টি হলে ত্রাণ বিতরণ নিয়ে অনিয়ম ও স্লিপ বিক্রির গোপন কাহিনী সকলের মুখে মুখে কথা হয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতেও ঝড় ওঠে। পরে রাত ৯ টার দিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল কাদেরের নির্দেশে একটি তদন্ত টিম সরাসরি ময়ফুলের দোকানে গিয়ে ৮৭ কেজি চাউল ও আলু সহ ব্যবসায়ী ময়ফুলকে আটক করে।

তদন্তকালে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হেমন্ত বর্মন, সংশ্লিষ্ট ট্যাগ অফিসার, উলিপুর থানার এসআই রাসেল, ত্রাণ অফিসের সহকারী অফিসার সহ উলিপুর উপজেলা ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দরা এবং স্থানীয় লোকজন উপস্থিত ছিলেন। ময়ফুলের ঘরে ত্রাণের ৮৭ কেজি চাউল ও আলু পাওয়া গেলে উলিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল কাদের ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। থেতরাই ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ইউএনও উলিপুর সহ তদন্ত টিম ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট সকল কাগজপত্র দেখেন। ইউপি পরিষদ অফিসে কাগজপত্র ও অবশিষ্ট স্টক সঠিক রয়েছে বলে জানা যায়।

স্থানীয় এক পক্ষের অভিযোগ ত্রাণ চাউল ও আলুর পরিমান আরো অনেক ছিলো। যা সন্ধ্যায় আটক হলেও থেতরাই ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি লেবু মিয়া সহ নেতাকর্মীদের মেনেজ করে অনেকেই মাল সরিয়ে ফেলেছে বলে জানা যায়

অপরদিকে প্রত্যক্ষদর্শী থেতরাই বসুনীয়া পারার আতাউর রহমান জানান, স্থানীয় নাজমুল, ময়ফুল সহ অনেকেই ৩/ ৪ জনের স্লিপের চাউল ও আলু সুকৌশলে উত্তোলন করছিলেন। আতাউরের ভাষায় স্লিপের এ ত্রাণগুলো সংখ্যায় অনেক ডিলারগণ সংগ্রহ করছিলেন। তিনি বাধা দেয়ায় এলাকার মহতিরা অর্থের বিনিময়ে চাল ক্রেতাদের শেল্টার এবং তাকে ফিরে যেতে বলেন বলে জানায়। নাজমুলের পিতা থেতরাই ইউপি পরিষদের চৌকিদার পদে চাকুরি করেন। তিনি আরো জানান, ঐ চৌকিদারসহ আরো ২/৩ জন চৌকিদার এ কাজে সহযোগিতা করছিলেন এবং মহতিরা পাহারা দিচ্ছিলেন। মহতিদের নাম তিনি ঘটনাস্থলে বলার সাহস না পেলেও তার কাছে ভিডিও চিত্র আছে বলে প্রতিবেদক কে জানান।

সাধারণ জনগণের দাবী ইউনিয়ন পরিষদের চৌকিদার, মেম্বার, চেয়ারম্যান দূর্নীতি বা চুরি করে বলেই এগুলো বাহিরে আসে। মহতি কিছু যুবক ও মুরুব্বীরা বসে থাকে ফলে অনিয়ম ধরা মুশকিল হয়ে যায়। মহতিদের নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি বা মাঠ দখল নিয়ে ঝামেলা হলে তবেই চাউল চুরির কথা প্রকাশ পায় ফলে দিন শেষে তবু ৮৭ কেজি চাউল আটকের ঘটনা ঘটলো এক শিক্ষক মন্তব্য করেন। মাল বিতরনের পুরো তালিকা, স্লিপ ও হাতের ছাপ পরীক্ষা নিরীক্ষা এবং গোপনে তালিকাভুক্ত কিছু মানুষকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে। এই মামলার তদন্তের আগে ঘটনায় জড়িত চৌকিদার, মেম্বার, চেয়ারম্যান ও মহতিদেরকে গ্রেফতারের দাবী জানান এলাকাবাসী।

উলিপুর উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রুবেলের নেতৃত্বে পরে ঐ চাউল ব্যবসায়ী ময়ফুলকে প্রশাসনের সহযোগিতায় তল্লাশি চালিয়ে ঘর হতে উক্ত চাউল ও আলু উদ্ধার হয় বলে জানা গেছে। (যার সবোর্চ্চ পরিমাণ ৮৭ কেজি)।

এ ঘটনায় উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রুবেল জানান, ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি লেবু মিয়া সহ কর্মীদের বিষয়ে যে কথা এসেছে তা ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। বরং উপজেলা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা আমার নেতৃত্বে থেতরাই উপস্থিত হয়ে ঘটনার সত্যতা উপলব্ধি করে ইউনিয়ন ছাত্রলীগকে সাথে নিয়ে সমন্বিত উদ্যোগে ৮৭ কেজি চাল ও আলু প্রশাসনের সহযোগিতায় উদ্ধার ও মামলা রজু হয়।

ঘটনার পর জাতীয় পার্টি মনোনীত থেতরাই ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী সরকারের বক্তব্য নিতে ইউপি কার্যালয় ও সম্ভাব্য জায়গাগুলোতে গিয়ে পাওয়া যায় নাই। ঐ দিন রাত ১০.৩৯ মিনিটে মুঠোফোনে সাক্ষাত অথবা বক্তব্য চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমি ব্যস্ত এখন বাড়ি যাচ্ছি কথা বলতে পারবো না। পরিষদের প্রাক্তন এক মেম্বার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অনেকেই ত্রাণের চাউল বেচা কেনা করলেও সারাদিন ছেলেরা একজনকেও ধরলো না অথচ ময়ফলকে ধরিয়ে দেয়া হলো। চুরির কৌশল পাল্টেছে, প্রতি স্লিপে যারা ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত কমিশন তুলেছে তারা ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে গেলো।

আটক ময়ফুল থেতরাই বাজারের একজন চাল ভুসি ব্যবসায়ী বলে জানা গেছে। তার পরিবারের দাবী উদ্ধারকৃত ৮৭ কেজি ত্রাণের চাউল তার দোকানে পাওয়া গেলেও এগুলো গ্রাম থেকে আসা ত্রান নেয়া প্রান্তিক মানুষদের, যারা দিন শেষে অন্যান্য কাজকর্ম সেরে বাড়ি ফেরে।

উলিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল কাদের জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে, ময়ফুলের দোকানে ত্রাণের চাউল ও আলু উদ্ধার করা হয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে বিভিন্ন ব্যক্তিদের কাছে কিনে নিয়েছে বলে জানিয়েছে। তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রজু করা হয়েছে।

Facebook Comments
custom_html_banner1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *