1. ashrafali.sohankg@gmail.com : aasohan :
  2. alireza.kg2014@gmail.com : Ali Reza Sumon : Ali Reza Sumon
  3. hrbiplob2021@gmail.com : News Editor : News Editor
শুক্রবার, ০৭ অক্টোবর ২০২২, ০২:৩৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম:-
জাতীয় স্লোগান হিসেবে ‘জয় বাংলা’ ব্যবহারের নির্দেশঃ হাইকোর্ট পাগলা মসজিদের এবার মিলল ১৫ বস্তায় ৩ কোটি ৮৯ লাখ ৭০ হাজার ৮৮২ টাকা কিশোরগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি’র দায়ীত্ব থেকে শরীফকে অব্যাহতি আনন্দ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে শেষ হলো SSNIMC এর সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আপনি কি রোগে ভুগছেন? দেখে নিন কোন রোগের জন্য কোন ডাক্তার দেখাবেন- কিশোরগঞ্জে উন্নত জাতের কচু ফসল ও উৎপাদন কলাকৌশল শীর্ষক প্রশিক্ষণ নারী সাংবাদিক মিতু’র বাড়ির রাস্তায় ঘর নির্মাণ, বাঁধা দেওয়ায় প্রাণনাশের হুমকি নিকলীতে প্রভাবশালীর হাতে সাংবাদিক লাঞ্ছিত থানায় অভিযোগ নান্দাইলে টাকা দিল দেড় লক্ষাধিক,পেল না সেচ সংযোগ ৪৮ বোতল বিদেশী মদ ও গাঁজাসহ তাড়াইল থানা পুলিশের হাতে আটক ৫ “মেঘ বর্ষণ” সমাজ কল্যাণ সংস্থা’র মেধাবী ও অসহায়দের আর্থিক সহায়তা প্রদান

কিশোরগঞ্জে দুটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শাখা খোলা, এবং নেপথ্যে যারা

রিপোর্টার:
  • সর্বশেষ আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২০
  • ৫১৬ সংবাদটি দেখা হয়েছে

কিশোরগঞ্জ জেলা সদরে অবস্থিত কিশোরগঞ্জ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় ও এসভি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে প্রভাতী ও দিবা শিফটে অতিরিক্ত একটি করে শাখা খোলার অনুমতি প্রদান করেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর এর পরিদর্শন কর্মকর্তার সুপারিশক্রমে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর এর মহাপরিচালক। যাহার অনুমতিপত্র উক্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকগণের কাছে প্রেরণ করা হয়।

এক নজরে কিশোরগঞ্জ সরকারি বালক ও এস ভি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়,

১৮৮১ সনে প্রতিষ্ঠিত শত বছরের পুরাতন কিশোরগঞ্জ হাই স্কুল পরবর্তিতে ১৯৪১ সনে কিশোরগঞ্জ রামানন্দ ইউনিয়ন হাই স্কুল নামকরণ করা হয়। ০১-০১-১৯৬৭ সনে প্রাদেশিকীকরণ করার পর বিদ্যালয়ের নাম কিশোরগঞ্জ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় রাখা হয়। উক্ত বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণী থেকে ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত মোট ১২৮২ জন ছাত্র শিক্ষা গ্রহন করছে ,যাহার মাঝে মেধা যাচাইয়ের মাধ্যমে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে ২৪৯ জন ছাত্র ভর্তি করা হয় কোটা সহ।

১ সেপ্টেম্বর ১৯৪৩ সালে এস ভি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯১৪ সালে আরবান স্কুল নামে প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে প্রথম বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়। কিশোরগঞ্জে এটি প্রথম ও এক মাত্র সরকারি বালিকা বিদ্যালয়। ৬ষ্ঠ শ্রেণী থেকে ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত মোট ১২৩৪ জন ছাত্রী বিভিন্ন শাখায় শিক্ষা গ্রহন করছে। যার মাঝে মেধা যাচাইয়ের মাধ্যমে ২৪৪ জন ছাত্রী ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে ভিন্ন ভিন্ন শাখায় ভর্তি করা হয়। তথ্য school website

প্রায় পাঁচ শতাধীক ছাত্র/ছাত্রী মেধা ভিত্তিতে ভর্তি হলেও আঁড়ালে থেকে যায় অনেক মেধাবী মুখ। সরকারি এ দুটি বিদ্যালয়ে ভর্তি করাতে না পেরে অনেক অভিভাবকের মনে নেমে আসে অমাবস্যার ঘোর অন্ধকার। আর তারই পরিপ্রেক্ষিতে গত জানুয়ারী মাসে অপেক্ষমান তালিকায় থাকা ছাত্র/ছাত্রীদের অভিভাবকগণ দুটি বিদ্যালয়েই শাখা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে মানববন্ধন করেন।

মানববন্ধনে নেতৃত্ব দেন অপেক্ষমান তালিকায় থাকা ছাত্র/ছাত্রীদের অভিভাবকগণের মাঝ থেকে নাজমুল ইসলাম ও শেখ সেলিম কবির সহ অনেকে। তাদের নেতৃত্বে কিশোরগঞ্জ ১ আসনের সংসদ সদস্য ডাঃ সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপির কিশোরগঞ্জ বাস ভবনে আসেন কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশফাকুল ইসলাম টিটুর মাধ্যমে ডিও লেটার নেয়ার জন্য।

ডাঃ সৈয়দা জাকিয়া নুর লিপি অভিভাবকগণকে আশ্বস্ত করেন এবং ৭ জানুয়ারি/২০ ডিও লেটার নিয়ে যথাযত কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করেন।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের আঞ্চলিক অফিস ময়মনসিং হতে প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে দাখিল করেন নেতৃত্বদানকারী অভিভাবকগণ।

কিছুদিন পর খোঁজ খবর নিতে গিয়ে জানা যায় সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শাখা বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে না। দুচোখ যেন অন্ধকার হয়ে পড়েছে। আশা প্রদীপ যেন নিমিষেই নিবে গেলে। কোন উপায় না দেখে নিরাশ হয়ে ফিরে আসার পথে দেখা হল কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, বিসিবির পরিচালক সৈয়দ আশফাকুল ইসলাম টিটু’র সাথে।

এবং তার পরামর্শ ও তাৎক্ষণিক ফোনে জেগে উঠেছিল কিশোরগঞ্জ মানুষের বহুল আকাঙ্ক্ষিত ফেলে দেওয়া ফাইলটি। শুরু হল শাখা বৃদ্ধি করা ফাইল এর কাজ, অগ্রগতিও ভালো ছিল। কিন্তু শেষ পর্যায়ে গিয়ে আবার ফাইলটি থেমে গেল এবং বলা হলো যদি সাম্প্রতিক মাধ্যমিক সরকারি বিদ্যালয়ের শাখা বৃদ্ধি করার কোন কাজ হয়ে থাকে এবং তার কাগজপত্রাদি দেখাতে পারে তাহলেই একমাত্র সম্ভব এ কাজ করার। আবারো নিরাশার মাঝে কিছুটা হলেও আশার আলো জ্বালিয়ে তারা বিদায় নিলেন।

এর মধ্যে নেতৃত্বের লোকের সংখ্যাও কমে গেল কিন্তু নাজমুল নামের সেই লোকটি দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে গেল সামনের দিকে; খোঁজ করতে শুরু করলেন কোথায় আছে সেই আলাদিনের চেরাগ। শেষ পর্যন্ত জানা গেল বিএনপি সরকারের আমলে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরী’র নির্বাচনী এলাকা মুন্সীগঞ্জে “কে কে গভঃ ইনস্টিটিউশন, মুন্সিগঞ্জ” নতুন শাখা খোলা হয়েছিল। এবং সেই সময় বাণিজ্য মন্ত্রী এম কে আনোয়ার কুমিল্লা জেলায় “কুমিল্লা জিলা স্কুল” ও “নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়” এর নতুন শাখা খুলেছিলেন।

শুরু করলেন ঢাকা টু মুন্সিগঞ্জ ঢাকা টু কুমিল্লা দৌড়ঝাঁপ।
৮ মার্চ/২০ কুমিল্লার দুটি বিদ্যালয় এবং ১০ মার্চ/২০ মুন্সিগঞ্জ একটি বিদ্যালয় থেকে নতুন শাখা খোলার কাগজপত্রাদি এনে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে জমা দেন।

নতুন শাখা খোলার কাগজপত্রাদি বিশ্লেষণ করে ৫ মে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেন যাহার স্মারক নাম্বার-৩৭.০০.০০০০.১০৬.২৭.০০৩.১৯.৯। এবং ৩১ মে/২০ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এর উপসচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) গোপাল চন্দ্র দাস এর স্বাক্ষরিত স্মারক নাম্বার- ৩৭.০০.০০০০.০৭১.২১.৭০০.১৯.৩১৬ এর একটি অনুমতি পত্র প্রধান শিক্ষক, সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় ও প্রধান শিক্ষক, এস ভি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রেরণ করেন।

যাদের অবদানের জন্য কিশোরগঞ্জ জেলার ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকগণের দীপ্ত শিখা প্রজ্বলিত হয়েছেন তাদের কথা তো বলতেই হয়।

দুটি বিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় মেধা যাচাইয়ে অপেক্ষমান ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকগণ। কারণ তারা আন্দোলন না করলে আলোর মুখ কেউ দেখতে পেত না। তাদের মাঝে নাজমুল ইসলাম যিনি শেষ পর্যন্ত হাল ছাড়েননি, শেখ সেলিম কবির, দোলন, ইলিয়াস, হেলাল উদ্দিন আলম, শফিকুল ইসলাম খান, মফিজুল ইসলাম, রোজি হাসান, নাদিরা আক্তার সহ আরো অনেক অভিভাবক বৃন্দ।

আরেকজনে নাম না বললে লিখার পরিপূর্ণতা আসবে না তিনি একজন সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর এর উপসচিব গোপাল চন্দ্র দাস। অফিসিয়ালি যে কাজগুলো করেছেন প্রতিটি কাজেই তার ভালোবাসার ছোঁয়া লেগে রয়েছে শুধু কিশোরগঞ্জের কাজ বলেই।

গোপাল চন্দ্র দাস এর সেল ফোনে কথা বললে তিনি বলেন, ফাইলটি যখন আমার কাছে আসলো তখন মনে পড়ে গেল আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী প্রয়াত সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এর কথা মনে পড়ে গেল তার পরিবারের কথা। আমি তার পরিবারের কথা ভেবেই প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত কাজটি করার জন্য চেষ্টা করেছি এবং করতে পেরেছি। আর এ কাজটি করার জন্য সব সময় যিনি খোঁজখবর নিয়েছেন তিনি হলেন কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম টিটু। তার জন্যই এ কাজটি করতে আমার সহজ হয়েছে।

নাজমুল ইসলাম এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, কোথায় কিভাবে কখন যেতে হবে তার সকল দিক নির্দেশনা দিতেন এবং মোবাইল ফোনে কথা বলতেন সৈয়দ আশফাকুল ইসলাম টিটু ভাই। তিনি আরো বলেন, তিনি সহযোগিতা না করলে আমাদের দ্বারা এ কাজ করা কোনদিনই সম্ভব হতো না। তিনি তাও বলেন, এক পর্যায়ে এই ফাইলটি বাতিল করে দেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, মন খারাপ করে যখন চলে আসি তখন কেন্টিনে টিটু ভাইয়ের সাথে আমি সহ আরো কয়েক জনের দেখা হয় এবং এই ফাইল এর বিষয়ে টিটু ভাইয়ের সাথে কথা গুলো শেয়ার করি, কথা শুনে টিটু ভাই সাথে সাথেই উপসচিব গোপাল চন্দ্র দাস এর সাথে যোগাযোগ করেন মোবাইলে এবং আমাদেরকে আবার তার সাথে যোগাযোগ করার জন্য বলেন। সাথে সাথেই আমরা আবার তার কাছে ছুটে যাই, তখন উপসচিব গোপাল চন্দ্র দাস আবার টিটু ভাই কে ফোন করে কিছু দিকনির্দেশনা দিয়ে দেন, আর সেই দিকনির্দেশনায় আমরা প্রথমে মুন্সিগঞ্জ তারপর কুমিল্লা দুটি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের সাথে যোগাযোগ করি এবং তাদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করি।

এস ভি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অপেক্ষমাণ শিক্ষার্থীর অভিভাবক হেলাল উদ্দিন আলম বলেন, প্রশাসনের সঠিক তদারকি না থাকা ও অপরাজনীতির স্বীকার হয়ে আমাদের সন্তানেরা যেন এই বছর ভর্তি হওয়া থেকে বঞ্চিত না হন। আমাদের কষ্ট যেন শুধু অনুমতি পত্রের মাঝেই আটকে না থাকে এটাই আমাদের মত সকল অভিভাবকদের আশা।

উল্লেখ্য, কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসন থেকেও ২০১৯ সালের প্রথম দিকে শাখা দ্বিগুণ করার জন্য শিক্ষা মন্ত্রনালয়ে পত্র প্রেরণ করেন কিন্তু তদারকির অভাবে সেই পত্র ফাইলের নীচে চাপা পড়ে যায়।

Facebook Comments Box

খবরটি পছন্দ হলে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আরও খবর

All rights reserved © 2021 Newsmonitor24.com
Theme Customized BY IT Rony