কি কারণে দাঁতের ক্ষয় হয় ও কিভাবে আমরা এর প্রতিকার করব?

মনিটর ডেস্কঃ দাঁতের ক্ষয়রোগ হল, দাঁতের এনামেলের ধ্বংস হয়ে যাওয়া। দাঁত ক্ষয়ে যাওয়া ডেন্টাল ক্যারিজ (dental caries) বা ক্যাভিটি (cavities) নামেও পরিচিত। দাঁতের এনামেলে জমে থাকা ব্যাক্টিরিয়াই দাঁতের ক্ষয়রোগের কারণ।
দাঁতের ডিমিনারাইলেজেশন (demineralization) এর জন্য দ্বায়ী অ্যাসিড, দাঁতের প্লাকের মধ্যে বেঁচে থাকা নির্দিষ্ট ধরণের অনুজীবদের (microorganisms) দ্বারা উৎপন্ন হয়ে থাকে। এই ব্যাক্টরিয়াগুলি জীবন্ত মাইক্রো-অরগানিজম। একজন মানুষের দ্বারা খাওয়া খাবারের শর্করা ও স্টার্চ থেকেই ব্যাকটিরিয়াগুলি নিজেদের খাবার পেয়ে থাকে। যখন তারা এই খাবারগুলি খায়, তখন মাইক্রো-অরগানিজমগুলি একধরণের অ্যাসিড উৎপন্ন করে যা দাঁতের এনামেলকে আক্রমণ করে ও দাঁতের ক্ষয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
দাঁতের ক্ষয়ের কারণ-
দাঁতের ক্ষয়রোগের কারণ এই ব্যাকটিরিয়াগুলি শর্করা বা সুগারকে নিজেদের খাদ্য হিসাবে ব্যাবহার করে থাকে। এই শর্করার প্রক্রিয়াকরণের ফলে যে বর্জ্য পদার্থ উৎপন্ন হয় তা হল সেই অ্যাসিড, যা দাঁতের এনামেল ও দাঁতের উপাদানের ডিমিনারাইলেজেহনের কারণ। একমিনিটের মধ্যেই এগুলি, দাঁতের ক্ষয় করতে সক্ষম অ্যাসিডের উৎপাদন শুরু করে দেয়। থুতু বা লালার, দাঁতের প্লাকের স্তর ভেদ করে এই অ্যাসিডের সাথে প্রতিক্রিয়া করতে প্রায় একাধিক ঘন্টা সময় লেগে যাতে পারে।
ঘরে এবং ডেন্টিস্টের কাছে ফ্লুরাইডস (fluorides) ব্যবহার করলে, তা দাঁতের মেরামত করায় সাহায্যকারী হতে পারে। ঠিকঠাক চিকিৎসা না করালে, দাঁতের ডিমিনারাইলেজেশন ক্রমাগত হয়ে যেতে পারে। এনামেলের উপরিতল একবার ভেঙে গেলে, সেই দাঁত আর মেরামত করা আর সম্ভব হয়না। ডেন্টিস্টকে, ক্যাভিটি পরিস্কার করে মেরামত করতে হবে। দাঁতের ক্ষয়রোগ বিনা চিকিৎসায় ফেলে রাখলে, তা দাঁতের মজ্জায় পৌঁছে যেতে পারে, যার মধ্যে স্নায়ু ও রক্তনালীও অন্তর্ভুক্ত। নরম টিস্যুগুলোতে অ্যাবসেস (abscess) বা ফিসচুলা (fistula) বেড়ে উঠতে পারে।

দাঁতের ক্ষয়ের কারণ-
প্রতিবার খাবার খাওয়ার পর ব্রাশ ও ফ্লশ করে, ক্যাভিটি প্রতিরোধ করা যেতে পারে। ব্রাশ ও ফ্লস করার জন্য কিছুটা টাইম দিন। পরিস্কার করতে গিয়ে, যেই জায়গাগুলিতে আপনি ঠিকমতো পৌঁছাতে পারেন না, সেই জায়গাগুলোতেই সাধারণের চেয়ে বেশি করে ক্যাভিটি হওয়ার সম্ভবনা থাকে।

দাঁতের ক্ষয় খুবই সাধারণ সমস্যা এবং প্রথমেই এই ক্ষয় হওয়া প্রতিরোধ করতে সঠিকভাবে পরিস্কার ও ফ্লস করা আর নিয়মিত দাঁতের চেক-আপ করানোই সবথেকে আদর্শ উপায়।

এছাড়াও, ক্যান্ডিস, কুকিস, সোডা ও মিষ্টি পানীয় এড়িয়ে চলার চেষ্টা করা করুন। যদি আপনি এগুলো খেয়েও ফেলেন তবে খাওয়ার সাথে সাথেই ভাল করে মুখ ধুয়ে ফেলুন। যেকোন কিছু খাবার খাওয়ার সাথে সাথেই মুখ ধুয়ে ফেলুন।

Facebook Comments
custom_html_banner1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *