কুড়িগ্রামের ছাত্রাবাস; ভাড়া মওকুফের আবেদনে মালিকপক্ষের না

এজি লাভলু

করোনাভাইরাসের কারণে বাংলাদেশে তথা কুড়িগ্রাম জেলাতেও মহামারী আকার ধারণ করেছে। এই সময়ে উন্নয়নশীল বাংলাদেশ পড়ে যাচ্ছে অর্থনৈতিক সংকটে। মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর অবস্থা ভীষন ভয়াবহ। নিম্নবিত্তদের দিন যেন যাচ্ছেই না। এসব পরিবারের অবস্থা দেখবেই বা কয়জন।

এসব পরিবারের অনেক ছেলে মেয়ে জীবনের স্বপ্ন পুরন করতে বিভিন্ন জায়গায় চলে গিয়েছে ভালো পড়াশুনার আশায়। অনেকেই ছাত্রাবাসে থাকেন। করোনা পরিস্থিতির জন্য মার্চের শেষের দিকে ছাত্রাবাসে থাকা সকল ছাত্র-ছাত্রী বাসায় চলে এসেছে।

এসব অসচ্ছল পরিবারের প্রায় ৮০ ভাগ ছাত্র-ছাত্রী নিজের উপার্জিত অর্থ দিয়ে পড়াশুনা চালায় কিংবা দিনমজুর বাবার অর্থে। অনেকে আবার পরিবারকেও সাহায্য করে। কিন্তু এমন অবস্থায় তারাও অসহায় হয়ে পড়েছে। তাই তাদের অনেকেই দিতে পারছে না ছাত্রাবাসের মাসিক ভাড়া। এদিকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দেন করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।

রংপুর বিভাগের কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ছাত্রাবাসের মালিকরা মাসিক ভাড়া আদায়ের জন্য ছাত্র-ছাত্রীদের এক ধরনের চাপ প্রয়োগ করছেন অথবা ছাত্রাবাসের সিট ছেড়ে দিতে বলছেন। অনেক ছাত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিযোগও করেছেন ছাত্রাবাসের মাসিক ভাড়া না দেয়ায় তাদেরকে মন্দ ভাষায় কথা বলা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সদর উপজেলার ছাত্রাবাসের সকল ছাত্র-ছাত্রী একত্রিত হয়েছেন ছাত্রাবাসের মাসিক ভাড়া মওকুফের জন্য। তারা জেলা পুলিশ কুড়িগ্রাম এর ফেসবুক পেইজ এ ম্যাসেজ করে বিষয়টি জেলা পুলিশকে জানায়।

কুড়িগ্রাম জেলার সম্মানিত পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খান (বিপিএম) এর নির্দেশে সদর থানার ওসি মাহফুজার রহমান সদর উপজেলার সকল ছাত্রাবাস মালিকদের নিয়ে এক বৈঠক করেন। বৈঠকে ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতি মানবিক দিক বিবেচনার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কিন্তু ভাড়া মওকুফের ব্যাপারে কোনো নির্দেশনা প্রশাসন দেয়নি।

বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি আলমগীর কবির এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ শাখার সাবেক সভাপতি আতিকুর রহমান আতিক সকল ছাত্রাবাস মালিকদের মাসিক ভাড়া না নেয়ার আহবান জানান।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ভাড়া মওকুফ করার জন্য ছাত্র-ছাত্রীরা আকুল আবেদন জানিয়েছে কিন্তু ছাত্রাবাস মালিকরা তা মানছেন না।এমন অমানবিক আচরণকে ধিক্কার জানিয়েছে সদর উপজেলার ছাত্রাবাসে থাকা সকল ছাত্র-ছাত্রী।

Facebook Comments
custom_html_banner1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *