কোন পথে হাটছে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা?

মোঃ রফিকুল ইসলামঃ কেউ সত্যিকার শিক্ষা চায় কিনা জানিনা।তবে মুখে সবাই বলে আমার সন্তান শিক্ষিত হোক ,আমার পরিবার শিক্ষিত হোক, সমাজ শিক্ষিত হোক, দেশ শিক্ষিত হোক, কিন্তু আমার খুব বেশি সন্দেহ হয়, সত্যিকার অর্থে কেউ শিক্ষা চায় না কিনা। আমার প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য অনেক অভিভাবক আসেন, এসে প্রথমেই জিজ্ঞাস করে কয়টি জিপিএ ৫ পেয়েছে। সবাই আমাদের কাছে জিপিএ ৫ চায়। কেউ বলে না আমার সন্তানটাকে একজন ভালো মানুষ বানিয়ে দেন। খুব আপেক্ষ লাগে এসব কথা শুনে। একজন শিক্ষার্থীর র্ভালো ফলাফল দরকার, তাই বলে সব কিছু বিকিয়ে দিয়ে নয়। জিপিএ ৫ এর জন্য যা করার দরকার সব কিছু অভিভাবকরা করতে পারে। আমার কাছে মনে হয় বর্তমান সভ্যতায় জিপিএ ৫ এর পিছনে ছুটতে ছুটতে আমরা মানুষ হওয়ার পরিবর্তে অমানুষেই বেশি তৈরী করছি।ভদ্রতার আর সামাজিকীরনের পরিবর্তে আমাদের প্রিয় সন্তানদের নিয়ে যাচ্ছি অচিনপুরের পথে যেখানে তারা তৈরী করছে জিপিএ ৫ চাওয়া অভিভাবকদের জন্য সুন্দর মনোরম বৃদ্ধাশ্রম। আমার ব্যক্তিগতভাবে পরিচিত একজন ভ্রদ্রলোকের কথা জানি যার সন্তান বর্তমান সরকারের একজন সচিব হওয়া সত্ত্বেও ওনাকে অবহেলায় আর অনাদরে মৃত্যু বরণ করতে হয়েছে। কোন একটি রাত্রি সেই সচিব সাহেবের বাসায় উনার জায়গা হয়নি। প্রশ্ন জাগে সেবস অংকারী মা দের কাছে কী আশা করেন সন্তানের কাছে?। এখনই অনেক মা দেরকে দেখি সরকারী কোন স্কুলে ভর্তি হলে পা দেখি আর মাটিতে পড়েনা। ঐ সব অভিভাবকদের বলি পা মাটিতে রাখেন নইলে চোখের পানি মুছার জন্য কিছু পাবেন না।
কয়েকদিন যাবত ক্লাসে ক্লাস করাতে গিয়ে বাধার সম্মুখিন হচ্ছি। প্রতিষ্ঠান চলাকালীন সময় বাচ্চাকে কোচিং বা প্রাইভেট পড়াবে। কী সুন্দর সিন্ধান্ত তাও আবার আমার শহরের সরকারী স্কুলে চাকুরী করা শিক্ষকের সন্তানকে। অভিভাবকের আবদার আমার সন্তানকে 2 ক্লাস করার পর প্রতিদিন ছুটি দিয়ে দিবেন। কারণ ছেলেকে কোচিং এ দিতে হবে। প্রাইভেটে দিতে হবে। নিজেকে শিক্ষকের দাবী নিয়ে কখনো দাড়াইনা তবে শৃষ্ঠাচার, ক্ষমাশীলতা, কর্তব্য পরায়নে নিজেকে কখনো পিছ পায় হইনা। যদি নাই হই তাহলে কেন শিক্ষিত নামধারী অভিভাবকদের অনাচারের স্বীকার হতে হবে বলতে পারেন কেউ? পৃথিবীতে এখনও কিছু ভালো শিক্ষক আছে যাদের উপর ভরসা করা যায়। যারা শুধু পড়ায় না একজন ভালো মানুষ হতে কিছুটা সহয়তা করে হয়ত জিপিএ ৫ দিতে পারেনা। এসব শিক্ষকরা আজ ‍বৃদ্ধশ্রমগামী অভিভাবকদের কাছে অচল পয়সা। তাদের বিচার বিবেচনা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে হুজুগে।
আজ খুব কষ্ট থেকে লিখছি,অনেক অভিভাবকদের অসহায়ত্ব দেখেও নিজেকে অসহায় মনে হয়।তার মুল কারণ “মোবাইল ফোন” এই মোবাইল ফোন আমাদের সোনার ছেলেদের নষ্ট করে দিচ্ছে,নষ্ট করে দিচ্ছি আমাদের সোনার সংসার।প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে হাজারো মেধাবীদের ।তথ্য প্রযুক্তির যুগে মোবাইল ফোন প্রয়োজন কিন্তু অভিভাবকদের কে অনুরোধ করব মোবাইল ফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে যথেষ্ঠ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। আর সন্তান দেরকে শুধু চাপ প্রয়োগ নয় করতে হবে মানুষিক কাউন্সিলিং। গড়ে তুলতে হবে জিপিএ-৫ নয়, একজন ভালোমানুষের উপযোগী করে।

লেখক
মোঃ রফিকুল ইসলাম
অধ্যক্ষ
কিশোরগঞ্জ জেলা পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ।

Facebook Comments
custom_html_banner1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *