ধসে গেছে রৌমারী শহররক্ষা বাঁধের ৩৮০ মিটার

এজি লাভলু, স্টাফ রিপোর্টার:

ভরাট হওয়া সোনাভরি নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় নদীতে ধসে গেছে রৌমারী শহররক্ষা বাঁধের ৩৮০ মিটার। গত বন্যায় ধসে গেলেও অদ্যাবধি বাঁধটি সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেয়নি বাঁধটি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা ‘ধনারচর পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেড’। এমতাবস্থায় আতঙ্ক নিয়ে বসবাস করছে প্রায় ২১ গ্রামের মানুষ।

তারা বলছে, বর্ষা আসার আগেই সংস্কার না করা হলে প্লাবিত হবে গ্রামগুলো। ডুবে যাবে রৌমারী উপজেলার কর্তিমারী বাজার, রৌমারী-ঢাকা ডিসি সড়ক, চিকিৎসালয়, আটটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন ধর্মীয় স্থাপনা ও বসতবাড়ি। ক্ষতির মুখে পড়বে ৩০টিরও বেশি মত্স্য খামার ও প্রায় সাড়ে ৯ হাজার হেক্টর ফসলি জমি।

কর্তিমারী ঘাট এলকার মো: হাবিবুর রহমান বলেন, গত ৮/৯ বছর আগে একটি চক্র কয়রা নদী থেকে ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে বালু উত্তোলন শুরু করে। স্থানীয়দের তীব্র বাধা থাকলেও প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় বারবার পার পেয়ে যায় তারা। এর ফলশ্রুতিতে গত বন্যায় প্রায় ১০ কিলোমিটার বাঁধের ৩৮০ মিটার জায়গা পুরো নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

জানা যায়, জিওবি জাইকার অর্থায়নে ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ১ কোটি ২৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় রৌমারী উপজেলার ধনারচর বেড়িবাঁধ। এলজিইডির তত্ত্বাবধানে ঐ উপ-প্রকল্পটি ‘ধনারচর এফএমডি’ নামে পরিচিতি পায়। যা ‘ধনারচর পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর বাস্তবায়ন করে। বাঁধ নির্মাণের পর থেকে এখন অকাল বন্যা থেকে মুক্ত ঐ অঞ্চলের ছোটো-বড়ো অন্তত ২১টি গ্রাম।

ধনারচর পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা বলেন, নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও ভয়াবহ বন্যার কারণে বাঁধটি ভেঙে গেছে। উপজেলা ক্ষুদ্র পানি ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় বাঁধটি নির্মাণের আবেদন করেছি আমরা।

রৌমারী উপজেলা উপসহকারী প্রকৌশলী মো: মেজবাউল আলম বলেন, ধনারচর পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেডের আবেদনের পর জরিপ শেষে বাঁধটি সংস্কারের জন্য কুড়িগ্রাম অফিসে প্রকল্প প্রস্তাবটি পাঠিয়েছি। অনুমোদিত হলে সংস্কারের কাজ শুরু হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: আল ইমরান বলেন, বিষয়টি জানার পর সঙ্গে সঙ্গে আমি উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তাকে সেখানে পাঠিয়েছিলাম। বর্তমানে ড্রেজারে মাটি কাটা বন্ধ রয়েছে। তালিকা করতে বলেছি। যারা এ অপকর্মের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Facebook Comments
custom_html_banner1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *