নাগেশ্বরীতে প্রতিপক্ষের বাড়ী পুড়িয়ে দিয়েছে প্রভাবশালী।

এজি লাভলু, স্টাফ রির্পোটার:

কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার চন্ডিপুর সংলগ্ন এলাকায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্ত্র করে প্রভাবশালীর মামলায় অসহায় পরিবার পালিয়ে থাকার সুবাধে পেট্রোল দিয়ে বাড়ীঘর পুড়িয়ে দিয়েছে প্রভাবশালী পক্ষ বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয় অসহায় পরিবার থানায় মামলা করতে গেলে নাগেশ্বরী থানা পুলিশ বলছেন ওসি স্যার ঢাকায়, স্যার না ফেরা পর্যন্ত মামলা নেয়া সম্ভব নয়। নিরুপায় হয়ে পুলিশ সুপারের দ্বারস্থ হয়েছেন অসহায় পরিবারটি।

খোজ নিয়ে জানা গেছে, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের চন্ডিপুর (বাটুয়াখানা) গ্রামের মান্নান গ্রুপের সঙ্গে ইলিয়াস গ্রুপের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ঘটে। এ নিয়ে আব্দুল মান্নান বাদী হয়ে ২২ ফেব্রুয়ারী ইলিযাস সহ তার গ্রুপের ১৩ জনকে আসামী করে নাগেশ্বরী থানায় মামলা দ্বায়ের করেন। মামলার পর ইলিয়াস গ্রুপ পলাতক থাকায় মামলার পরের দিন প্রভাবশালী মান্নান গ্রুপ রাত ৯ টার দিকে ইলিয়াসের বসতবাড়ীর ৩টি টিনের ঘর পেট্রোল দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। এতে ঘরে থাকা ধান, চাল, খাট, চেয়ার-টেবিল, শোকেজ, স্বর্নালংকার সহ প্রায় ৫ লক্ষাধিক টাকার মালামাল আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

ফায়ার সার্ভিস খবর পেয়ে ছুটে আসলেও তার আগেই সবকিছু ভস্মিভুত হয়। ঘটনার পরের দিন ইলিয়াস সহ তার গ্রুপের আসামীরা আদালত হতে জামিন নিয়ে বাড়ী ফিরে দেখেন, ইলিযাসের বসতভিটা ছাড়া সবকিছু পুড়ে ছাই করে দিয়েছে প্রভাবশালী পক্ষ ।

সাংবাদিকেরা ঘটনাস্থল গেলে শতশত নারী-পুরুষ ঘিরে ধরে জানান, প্রভাবশালী মান্নান গ্রুপ যে কাজটি করেছে পেপারে লিখেন, প্রশাসন দেখুক। এলাকাবাসী আরও জানান, ইলিয়াস সহ তার পরিবারের পড়নে যা ছিল তা ছাড়া আর কিছুই নাই।

ভুক্তভোগী ইলিয়াস কাঁদতে কাঁদতে জানান, বর্তমান খামো কি, থাকমো কোথায়। তার কথায় গ্রামবাসীও অনেকে চোখের জল ধরে রাখতে পারেনি।

ইলিয়াস আরও বলেন- হামিদ, আমিনুর সহ ১০-১২ জন নারী-পুরুষ মিলে থানায় গিয়েছি এক দারোগা সাফকথা বলছেন, ওসি স্যার ঢাকায় আছে না ফিরা পর্যন্ত মামলা রেকর্ড হবে না। তারপর আমরা থানায় পাত্তা না পেয়ে গতকাল ২৫ ফেব্রুয়ারী আমি সহ বেশ কয়েকজন এসপি স্যারের কাছে গিয়ে সবকিছু খুলে বলেছি, স্যার সবকিছু শুনে নাগেশ্বরী থানাকে সরেজমিনে অনুসন্ধান ও প্রয়োজনীয আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনপুর্বক প্রতিবেদন তার দপ্তরে দাখিলের নির্দেশ দেন। যার রিসিপশন ডায়েরী নং ১৭, তাং ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ইং ।

Facebook Comments
custom_html_banner1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *