পূ’র্ণিমার চাঁদের চেয়েও সুন্দর ছিলেন আমার প্রিয় নবীজি (সা:)…..

প্রায় দেড় হাজার বছর আগে পৃথিবী এমন সভ্য, সুন্দর ছিল না। ছিল জাহিলিয়াতে ঢাকা।

কারণ মানুষ তখন ভুলে গিয়েছিল নিজেদের পরিচয়।ভুলে গিয়েছিল তারা মানুষ। ফলে পশুত্বের চেয়েও নিকৃষ্ট হয়ে উঠেছিল তাদের মন।

তারা এতটাই অমানবিক ছিল, নিজের ঔরসজাত সন্তানকেও জী”ব”ন্ত মা”টি”তে পুঁ”তে ফেলত।হা”’না”’হা”’নি, মা”’রা”’মা”’রি, র”’ক্তা”’র”’ক্তি, কাফেলা লু”’ট, নারী নি”’র্যা”’ত”’ন”’স”’হ এমন কোনো মন্দ কাজ নেই, যা তারা করত না।

এমনই এক অন্ধকারাচ্ছন্ন সময়ে সমাজব্যবস্থাকে আমূল পরিবর্তনের জন্য সে ছিলেন এক মহামানব যাঁর নাম মুহাম্মদ (সা.)। তিনি এক আশ্চর্যময় পরিবর্তন আনেন সমাজে।

তাদের ভালোবাসা দিয়ে সত্যের পথে ডেকেছেন। কারণ তিনি যে দয়ার নবী আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে এসেছে তোমাদের মধ্যকার এমন একজন রাসূল, তোমাদের দুঃখ যার কাছে দুঃসহ।

তিনি তোমাদের হিতাকাঙ্খি, বিশ্বাসীদের প্রতি স্নেহশীল, দয়াময়।’ (সূরা তাওবা : ১২৮)।নবীজির এ দয়া নারী, পুরুষ, শিশু, যুবক, বৃদ্ধ সব মানুষের জন্যই সমানভাবে ছিল।

হোক সে ভিন্ন মতের বা পথের। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পাশ দিয়ে একবার এক লা”’শ নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।তিনি তখন তা দেখে দাঁড়ালেন, উপস্থিত সাহাবায়ে কেরাম তখন বললেন, এ তো ইহুদির লা”’শ।

রাসূলুল্লাহ (সা.) তাদের জিজ্ঞেস করলেন, আলাইসাত নাফসা? অর্থাৎ সে কি মানুষ নয়? (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৩১২)।

নবীজির দয়ামায়া শুধু মানব জাতিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। বাকহীন পশু-পাখির জন্যও ছিল তার দয়ামায়া। তাদের জন্যও নবীজির মমতা ছিল মানুষের মতোই।আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, আমরা এক সফরে রাসূল (সা.)-এর সঙ্গে ছিলাম।

এক সময় একটু প্রয়োজনে দূরে গেলাম। দেখলাম একটি লাল পাখি, সঙ্গে দুটি বাচ্চা। আমরা বাচ্চা দুটি ধরে নিয়ে এলাম। কিন্তু মা-পাখিটিও চলে এলো।বাচ্চা দুটির কাছে আসার জন্য পাখিটি মাটির কাছে অবিরাম উড়ছিল। তখন রাসূল (সা.) এসে পড়লেন। তিনি এটি দেখে বললেন, কে এ বাচ্চা ধরে এনে এদের মাকে কষ্ট দিচ্ছে?

যাও, বাচ্চা দুটি মায়ের কাছে রেখে এসো। (আবু দাউদ ১৪৬/২)। জন্যই তো নবীজি লক্ষ কোটি হৃদয়ে সুবাসিত ফুল হয়ে আছেন। যা স্বীকার করেছেন মহাত্মা গান্ধীজিও। তিনি বলেছিলেন,

‘আমি সেরা একজনের জীবন সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলাম, যিনি আজ লক্ষ কোটি মানুষের হৃদয়ে অবিতর্কিতভাবে স্থান নিয়ে আছেন।যে কোনো সময়ের চেয়ে আমি বেশি নিশ্চিত যে,

ইসলাম তরবারির মাধ্যমে সেসব দিনগুলোতে মানুষের জীবন-ধারণ পদ্ধতিতে স্থান করে নেয়নি।

ইসলামের প্রসারের কারণ হিসেবে কাজ করেছে নবীর দৃঢ় সরলতা,

নিজেকে অন্যের জন্য প্রতিভাত করা, ভবিষ্যতের ব্যাপারে সতর্ক ভাবনা, বন্ধু ও অনুসারীদের জন্য নিজেকে চরমভাবে উৎসর্গ করা।

Facebook Comments
custom_html_banner1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *