প্র’তিপক্ষকে ফাঁসাতে মে’য়েকে হত্যা করে নিখোঁজ ডা’য়েরি করল বা’বা!

লক্ষীপুর- লক্ষ্মীপুরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে দেড় বছরের ফারহানা আক্তার রাহিমাকে তার বাবাই হত্যা করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।চন্দ্রগঞ্জ থানার ওসি মো. জসীম উদ্দীন বলেন, গ্রেপ্তারের পর সোমবার ফয়েজ আহাম্মদ মনু (৪৫) নামে এই বাবা তার মেয়েকে হত্যার দায় স্বীকার করে লক্ষ্মীপুরের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

ফ’য়েজ চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের পূর্বরাজাপুর গ্রামের হোসেন ওরফে খোরশেদ আলমের ছেলে।এর আগে শনিবার বাড়ির সেপটিক ট্যাংক থেকে ফয়েজের দেড় বছরের মেয়ে ফারহানার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনা তদন্তে নেমে পুলিশ গ্রেপ্তার করে বাবা ফয়েজকে আদালতে দোষ স্বীকার করে ঘাতক ফয়েজ আহাম্মদ মনু খুনের বর্ণনা দিতে গিয়ে জানায়, পাশের বাড়ির মতিনদের সাথে জমি পরিমাপ এবং বিদ্যুতের লাইন টানা নিয়ে তার সাথে আগে থেকে বিরোধ চলছিল।

তা’দেরকে হত্যা মামলায় ফাঁসাতেই নিজের শিশুকন্যাকে হত্যার একক পরিকল্পনা নেয় মনু।গত ৫ মে দুপুর ১২টার দিকে বাড়িতে খেলাধুলা করছিল শিশু রাহিমা। এসময় সবার অজান্তে রাহিমাকে কোলে তুলে বাড়ি থেকে একটু দূরে নির্জন ঝোঁপের কাছে নিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ সেখানেই লুকিয়ে রাখে।

এ’রপর বাড়িতে এসে তার মেয়ে হারিয়ে গেছে বলে বিভিন্নস্থানে খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন সবাই।সারাদিন চলে যাওয়ার পর রাত ১০টার দিকে চন্দ্রগঞ্জ থানায় মেয়ে হারানোর সাধারণ ডায়রি করেন পিতা মনু নিজেই। এরপর পুলিশসহ বাড়ির আশপাশের বিভিন্নস্থানে শিশু রাহিমাকে খোঁজাখুঁজি করা হয়। কিন্তু তাকে আর পাওয়া যায়নি।৮ মে শুক্রবার রাত ১২টার পরে শিশু রাহিমার লাশ ওই ঝোঁপের থেকে নিয়ে এসে নিজবাড়ির টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকিতে ফেলে দেয় পিতা মনু নিজেই। পরদিন শনিবার সকাল ৭টার দিকে চন্দ্রগঞ্জ থানায় ফোনে খবর দেয় তার মেয়ের লাশ পাওয়া গেছে তার বাড়ির টয়লেটের ট্যাংকিতে।

এ’রপর পুলিশ এসে সেপটিক ট্যাংকি থেকে শিশু রাহিমার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।এ ঘটনায় শিশু রাহিমার মা’ রাশেদা আক্তার সুমি বাদি হয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন।চ

ন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসীম উদ্দীন বলেন, জেলা পুলিশ সুপার ড. এএইচএম কামরুজ্জামান স্যারের দিক নির্দেশনায় শিশুকন্যা রাহিমা হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটিত হয়েছে। খুনের যাবতীয় পরিকল্পনা ও মরদেহ গুমের বর্ণনা দিয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে ঘাতক পিতা ফয়েজ আহাম্মদ মনু।

Facebook Comments
custom_html_banner1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *