প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মানছে না জনপ্রতিনিধিরা; অভিযোগ এমপি মতিনের

এজি লাভলু, স্টাফ রিপোর্টার

মহামারি করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবিলায় দুস্থ অসহায় ও কর্মহীন মানুষদের সরকারি খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিতে নিরপেক্ষ তালিকা তৈরিতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বার ও কাউন্সিলররা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অমান্য করছেন। এমন অভিযোগ তুলেছেন কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক এমএ মতিন।

গত ২৩ এপ্রিল নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট করেছেন আওয়ামী লীগের এই সংসদ সদস্য।

সংসদ সদস্য লিখেছেন: ‘কুড়িগ্রাম-৩ সম্মানিত ইউপি চেয়ারম্যান/মেম্বার/কাউন্সিলর ভাইবোনেরা, আপনাদের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও যারা সরকারি নির্দেশনা ও গাইডলাইন অগ্রাহ্য করে নিজেদের স্বার্থে খেয়াল খুশিমতো ঘরে বসে ত্রাণের তালিকা তৈরি করছেন কিংবা পুরাতন তালিকা চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন, তারা সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলার নীলনকশা বাস্তবায়নের জন্য এটা করছেন। বর্তমান দুর্যোগকালে এটা চরম জনস্বার্থবিরোধী কাজ। অথচ জনসেবার অঙ্গীকার করে আপনারা নির্বাচনি বৈতরণী পাড় হয়েছিলেন। তাই জনগণের কাছে দেওয়া অঙ্গীকার পূরণের এটাই উপযুক্ত সময়। প্রতি ওয়ার্ডে ত্রাণ কমিটি গঠিত হয়েছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নির্দেশে, স্বচ্ছভাবে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে আপনাদের সহযোগিতা প্রদানের জন্য।

তাই মেম্বার/কাউন্সিলর ভাইবোনেরা আপনারা ওয়ার্ডের ত্রাণ কমিটি, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসারসহ বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরেজমিনে অবস্থা দেখে (ভাতা ও সুবিধাভোগী বাদ দিয়ে) প্রকৃত হতদরিদ্র, অসহায়, অনাহারি ও কর্মহীন মানুষদের তালিকা তৈরি করুন। আপনাদের মনগড়া তালিকা দিয়ে ত্রাণ বিতরণের সুযোগ পাবেন না। ত্রাণ নিয়ে কোনও কারসাজি বা অনিয়ম সহ্য করা হবে না। সকলের জন্য শুভকামনা।’

সংসদ সদস্য অধ্যাপক এমএ মতিন জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ছিল, প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে ত্রাণ বিতরণের কমিটি করে সেই কমিটিকে সঙ্গে নিয়ে দুস্থ, অসহায় কর্মহীন মানুষের তালিকা করার। কিন্তু ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যরা ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটির সঙ্গে নামমাত্র মিটিং করলেও তালিকা করার সময় তাদের সঙ্গে নেননি। তারা সরেজমিনে বাড়ি বাড়ি না গিয়ে নিজেদের বাড়িতে বসে খেয়াল-খুশি মতো তালিকা করছেন।

Facebook Comments
custom_html_banner1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *