প্রাচীন লাউড় রাজ্যের রাজধানীর দূর্গ সংরক্ষিত হলো

সুনামগঞ্জের কৃতি সন্তান বর্তমান বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক এর তথ্যের আলোকে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগীয় আঞ্চলিক পরিচালক ড.মো. আতাউর রহমানের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি প্রত্নতাত্ত্বিক খনন দল গত ১০/১১/২০১৮ খ্রি. তারিখ থেকে ৩ মাসেরও অধিক সময় সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলাস্থ হলহলিয়া গ্রামের প্রাচীন লাউড় রাজ্যের রাজধানী দূর্গ প্রত্নতাত্ত্বিক খনন কাজ সম্পাদন করেন ৷ 

প্রত্নতাত্ত্বিক খনন কাজে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল আহাদ সরকার , পুলিশ সুপার জনাব মো. বরকতুল্লাহ খান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব পূর্ণেন্দু দেব, উপজেলা চেয়ারম্যান, মেম্বরসহ অন্যান্য সর্বস্থরের প্রতিনিধি ও সাংবাদিকবৃন্দরা সহযোগীতা করেছেন ৷ তবে এই গ্রাম প্রত্যান্ত অঞ্চল, যোগাযোগ ব্যাবস্থা কষ্টসাধ্য, খননকৃত প্রত্নস্থলে বসবাসকারীদের অসহযোগীতার পরও এখানে  নানান প্রতিকুলতার মধ্য দিয়ে খনন দল তাদের কার্য সম্পাদন করেন ৷ দীর্ঘ প্রায় ০১ বছরের ব্যাবধানে এই প্রত্নস্থলটি সরকারি তালিকাভূক্ত করার জন্য প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগীয় আঞ্চলিক পরিচালক ড. মো. আতাউর রহমান প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরে মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) জনাব মো. হান্নান মিয়া, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সচিব ড. মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল এনডিসি এবং বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান কবি ও গবেষক ড. মোহাম্মদ সাদিক এর মাধ্যমে দীর্ঘ প্রচেষ্টা ও যোগাযোগের মাধ্যমে গত ২৫/০৯/২০১৯ খ্রি. তারিখে এই প্রত্নস্থলটি সরকারি তালিকাভূক্ত ঘোষণা করা হয় ৷ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) জনাব মো. হান্নান মিয়া বলেন, সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলাস্হ হাওরাঞ্চলে এ ঐতিহাসিক দুর্গটি সরকারের প্রত্নসম্পদের তালিকাভুক্ত হওয়ায় সুনামগঞ্জ তথা সিলেট অঞ্চলের প্রত্নপর্যটন বিকাশের ধারা উন্মোচিত হলো! সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ডক্টর মো.আবু হেনা মোস্তফা কামাল এনডিসি বলেন, এ ধরনের বিশাল ও প্রত্ন-পর্যটন সম্ভাবনাময় প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন (লাউড়ের গড় রাজধানী দুর্গ) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংরক্ষিত পুরাকীর্তি তালিকাভুক্তির কাজটি সম্পাদন করতে পেরে অনেকটা সন্তুষ্টিবোধ করছি! ঐ স্হানে যেমনি আরও বেশি গবেষণাধর্মী কাজ করার সুযোগ তৈরি হলো, তেমনি এ সুবিশাল হাওরাঞ্চলে প্রত্ন-পর্যটনেরও আরও সম্ভাবনার দার উদঘাটিত হলো! বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান কবি ও গবেষক ড. মোহাম্মদ সাদিক বলেন সিলেটের প্রাচীন ইতিহাসের অনেকাংশই এই অঞ্চলে বিদ্যমান রয়েছে, এখানে সঠিকভাবে গবেষণা করতে পারলে এই অঞ্চলের সঠিক ইতিহাস পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে, যা সিলেটের ইতিহাসে এক নতুন মাত্রা যোগ হবে ৷ এই প্রত্নস্থলটি সরকারিভাবে তালিকাভূক্ত হওয়ায় প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা পোষণ করছি ৷ এখানে সঠিকভাবে নিরবিচ্ছিন্ন গবেষণার মাধ্যমে এখানকার সঠিক পটভূমি জানা যাবে এবং এই অঞ্চলে প্রত্ন-প্রেমি ও প্রত্ন-পর্যটনের বিকাশের ধারা নতুনভাবে উন্মোচিত হবে !
Facebook Comments
custom_html_banner1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *