ব’দর যু’দ্ধের মতো আ’মাদের সাহায্য ক’রো আল্লাহ।

ই’সলামের ইতিহাসে এটি প্রথম স’শস্ত্র যু’দ্ধ। মক্কার কাফেররা রাসূল (সা.) এবং মুমিন বাহিনীকে মক্কা থেকে বের করে দিয়েই চুপ করে বসে থাকেনি, তারা ইসলামকে শেষ করে দেয়ার জন্য নানা ফন্দি আঁটতে থাকে।

এ’ক পর্যায়ে আবু জাহেল আবু সুফিয়ান সিদ্ধান্ত নেয়, এখনই যদি মুহম্মদ বাহিনীকে নিঃশেষ করা না যায় তাহলে এ বাহিনীর সঙ্গে আর কুলিয়ে ওঠা সম্ভব নয়।আবু জাহেল এক হাজার সুসজ্জিত প্রশিক্ষিত সৈন্য নিয়ে বদরপ্রান্তরে এসে মদিনা আ’ক্রমণের জন্য অপেক্ষা করে।

এ খ’বর জানতে পেরে রাসূল (সা.) মাত্র ৩১৩ জন নিরস্ত্রপ্রায় সাহাবি নিয়ে এ বিশাল সৈন্যবাহিনীর মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত থাকেন।যু’দ্ধ শুরুর আগে রাসূল (সা.) আল্লাহর কাছে দুই হাত তুলে কা’ন্নাভেজা কণ্ঠে বলেন, ওগো আল্লাহ, আজ তোমার প্রতিশ্রুত সাহায্য বড়ই প্রয়োজন।

আ’জ যদি এ কয়জন মুমিন বান্দা ম’রে যায়, তাহলে তোমার দ্বীন প্রচারের জন্য আর কোনো মানুষ থাকবে না। তোমার দ্বীনের স্বার্থে তুমি আমাদের বিজয় দান কর।আল্লাহর রাসূলের দোয়া এমনই কবুল হয়েছে, বিশেষ ফেরেশতা নাজিল করে আল্লাহতায়ালা মুমিন বাহিনীকে সাহায্য করেছেন। এ সাহায্যের কথা আবার সূরা আলে ইমরানে আল্লাহ উল্লেখ করেছেন, হে মুমিনরা, আল্লাহ তোমাদের বদরে সাহায্য করেছেন অথচ সেদিন তোমরা ছিলে অ’সহায়।

ব’দরের এ ঘটনা থেকে মু’সলিম উম্মাহর সবচেয়ে বড় শিক্ষণীয় বি’ষয় হল, মু’সলিম উম্মাহ এমন একটি জাতি, যে নীরবে নিভৃতে অ’ত্যাচার-অনাচার-জু’লুম সহ্য করাকে ভ’য়াবহ গোনাহ মনে করে। প্রয়োজনে জীবন দিয়ে হলেও সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা মু’সলিম উম্মাহর সবচেয়ে বড় কর্তব্য। আজ মু’সলমানদের সামনে সেদিন এসেছে সমাজে শান্তি বজায় রাখা, শৃঙ্খলা বজায় রাখা, ধৈর্যধারণ করা খুবই জরুরি।

পা’শাপাশি তাদের এ কর্তব্য পালনের জন্য আল্লাহতায়ালার সাহায্য প্রার্থনা করাও জরুরি। মু’সলমান কখনও জাগতিক উপায়-উপকরণ কিংবা সম্পদের ও’পর ভরসা করে না। তারা সব সময় আল্লাহর ও’পর ভরসা করে।

তা’র মানে এ নয় যে, উপায়-উপকরণ ব্যবহার করা যাবে না।হে আল্লাহ, বদরের চেতনায় মু’সলমান যেভাবে বিজয়ী হয়েছিল আজকের মু’সলমানদেরও সেভাবে ক’রোনার সঙ্গে যু’দ্ধ করে বিজয় অর্জন করার তাওফিক দিন।

Facebook Comments
custom_html_banner1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *