বুঝতাম না। স্বাভাবিকভাবেই আমার বিয়ে হয়েছিলো। কিন্তু বিয়ের পর বুঝতে পারলাম

একজন ব’য়স্ক লোকের সাথে আমার বিয়ে হয়েছে। তার বয়স ৩৬ বছর আর আমার ১৪।

সবাই খুব অ’ত্যাচা’র করতো, মা’রতো, বকা দিত। আম্মুকে আর পরিবারকে অনেক মিস

করতাম। এমনকি বিয়ের পর আমাকে বাড়িতেও আসতে দেয়নি। খুব ছোট ছিলাম তাই

খুব একটা ঘরের কাজ পারতাম না। আমার স্বা’মী যিনি ছিলেন তার সাথে শা’রীরিক

সম্পর্ক হওয়ার পর আমি প্রায় ৫দিন কো’মায় ছিলাম। কিন্তু যখন জ্ঞান ফিরে তখন শুনি

আমার শ্ব’শুরবাড়ির কেউ আমাকে দেখতে আ’সেনি, এমনকি আমার স্বা’মীও না।

আমার সব বই পুড়িয়ে ফেলা হয়েছিলো। আর ছোটবেলা থেকে আমার কবিতা, ছোট গল্প

আর যা মনে আসতো তা কবিতার ভাষায় লেখার অ’ভ্যাস ছিলো। আমার উপর যেসব

অত্যাচার হত তা আমার মাথায় সবসময় ঘুরতো। তাই একদিন বিকেলে অবসর সময়ে

আমি এসব লিখছিলাম আমার কবিতার খাতায়। আমার ননদ যিনি ছিলো, উনি দেখে

ফেলেছিলো যে আমি কী সব লিখছি। উনি ভেবেছিলেন যে আমি উনাদের নিয়ে বিচার

দিয়ে বাড়িতে চিঠি লিখছি। এই কথা আমার স্বামী জানার পর আমাকে অনেক মা’রধর

করে। তখন আমি প্রে’গন্যান্ট ছিলাম ৩ মাসের।

অ’ত্যাচা’রের কারণে আমার প্র’চুর ব্লি’ডিং হয়। পরে বুঝতে পারি যে বাচ্চা নষ্ট হয়ে গেছে।

এর কিছুদিন পর আমার ডি’ভোর্স হয়ে যায়। আমার কাকা আর গ্রামের মে’ম্বার মিলে

ডি’ভোর্সটা করায়। ডি’ভোর্সের পর আমি আমার পড়া শুরু করতে চাই কিন্তু কেউ

আমাকে সাহস দিচ্ছিলো না। আমার খুব কষ্ট লাগতো এই ভেবে যে আমি তো পা’লাইনি,

এমনকি খারাপ কোন কাজ করিনি, শুধু পরিবার যা চেয়েছে তাই করেছি। তাহলে কেন

আমাকে এত বদনাম পেতে হচ্ছে। আমি অনেক কষ্ট করে সবাইকে অনুরোধ করে ক্লাস

৮-এ ভর্তি হই। আমি আমার শ্ব’শু’রবাড়ি ৬ মাস ছিলাম তাই ক্লাস সে’ভেনের ফা’ইনাল

পরীক্ষা দিতে হয়েছিলো। আমার মা বাবা, নানু, নানা সবাই প্রচুর উৎসাহ দিয়েছিলো।