মুচির পাশে একজন উপসচিব

গত ২৪ এপ্রিল ২০২০ তারিখ ত্রাণ বিতরণ মনিটরিং শেষে পটুয়াখালী জেলার দশমিনা উপজেলা হতে নিজ বাসভবনে ফিরছিলেন তিনি। হঠাৎ জেলা পরিষদের রাস্তার মোড়ে গাড়ীর ড্রাইভারকে গাড়ী থামাতে বললেন।

গাড়ী হতে নেমে একটি টং দোকানের দিকে এগিয়ে গেলেন। কিছু জিজ্ঞাসা করার আগেই দোকানে বসা লোকটি হতচকিত ও কিছুটা ভয়ে বুক পকেট হতে দ্রুত একটা মাস্ক বের করে মুখে দিলেন।

পাশে রাখা বাক্সে হাত দিতে দিতে বললেন চলে যাবেন এখনই।  কিন্তু গাড়ী হতে নামা ব্যক্তিটি অন্য কোনো কথা না বলে  তিনি কি কাজ করেন তা তার কাছে জানতে চাইলেন। দোকানে বসা লোকটি জানালেন তিনি মুচি। লোকজনের জুতা সারাই করেন।

প্রয়োজন থাকলেও করোনার কারণে এখন আর নিয়মিত বসতে পারেন না। গত দু’দিন ধরে এখানে বসছেন। তাছাড়া অফিস-আদালত, মার্কেট, শপিং মলগুলো বন্ধ থাকায় লোকজনও জুতা সারাইয়ের জন্য এখন আর আসে না।

তবুও যদি কাস্টমার পাওয়া যায় এ আশায় মাঝেমধ্যে একটু আসেন। যদি দু’টো টাকা কামাই করতে পারেন। কোনো ত্রাণ পেয়েছেন কিনা একথা জানতে চাইলে বললেন, কয়েকদিন আগে জেলা পরিষদ হতে কিছু ত্রাণক পেয়েছিলাম। ৫ জনের সংসার। এতটুকুতে কি আর চলে।  আমি একা না। আশেপাশে আমরা আরও ৭/৮ জন আছি। সবারই একই অবস্থা। তাছাড়া সারা শহরে তো অনেকেই আছেন যারা মুচির কাজ করেন ।

গাড়ী হতে নেমে আসা অফিসারটি তাদের সেই ৮ জনের নাম তৎক্ষণাৎ লিখে নেন। আজ  ২৯ এপ্রিল ২০২০ তারিখ সকালে নিজের বেতনের টাকা হতে কেনা কিছু উপহার সেই রবিদাস শ্রেণীর কয়েকজনের হাতে তিনি তুলে দেন। অফিসারটি বিসিএস ২২তম ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা, সরকারের উপসচিব, বরিশাল বিভাগের উপ-ভূমি সংস্কার কমিশনার তরফদার মোঃ আক্তার জামীল।

Facebook Comments
custom_html_banner1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *