ল’কডাউন শিথিলের পর জা’র্মানিতে বে’ড়েছে সংক্রমণ।

প্রা’ণঘাতী ক’রোনাভা’ইরাসের (নোভেল-১৯) থাবায় বিপর্যস্ত পৃথিবীর অন্যতম সমৃদ্ধশালী দেশ জার্মানির অর্থনীতিকে বাঁচাতে ও সংক্রমণের মাত্রা বিবেচনায় সম্প্রতি লকডাউন শিথিল করেছে মার্কেল প্রশাসন। এরই ধারাবাহিকতায় খুলেছে বিপণিবিতানসহ নানা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। খুলে দেয়া হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও। তবে শিথিলতার মধ্যে আবারো বাড়তে শুরু করেছে করোনার সংক্রমণ।

র’বার্ট কোচ ইনস্টিটিউট (আরকেআই) জানিয়েছে, জার্মানিতে ‌‘রিপ্রোডাকশন রেট’ অর্থাৎ একজন রোগী আরও কতজন রোগীকে সংক্রমিত করছে সেই হার এখন ১ এরও বেশি। এর মানে দাঁড়াচ্ছে, দেশটিতে করোনা সংক্রমণের হার আগের চেয়ে আশঙ্কাজনক হারে আবারও বাড়তে শুরু করেছে।এদিকে রাজধানী বার্লিনসহ বেশ কিছু শহরে হাজার হাজার জার্মান লকডাউন বাতিল করার দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন।

য’দিও বুধবার মেরকেলের ঘোষণা অনুযায়ী, সব ধরনের দোকান খুলে দেওয়া হয়েছে। স্কুলে যেতে শুরু করেছেন দেশটির শিক্ষার্থীরা। শুরু হতে যাচ্ছে ফুটবল লিগ বুন্দেসলিগা।জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল বুধবার দেশের ১৬ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনা শেষে লকডাউন বিধিনিষেধ আরও শিথিল করার ঘোষণা দেন। এর আগে জার্মানিতে লকডাউন দ্রুত শিথিল করার বিষয় নিয়ে কয়েকটি রাজ্য সরকার দাবি জানিয়ে আসছিল। মানুষও বিক্ষোভ করেছেন।

ল’কডাউন শিথিল নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে নানা মত থাকলেও স্থানীয়রা মনে করছেন মার্কেল সরকার সংকটময় এ সময়ে বুঝে-শুনেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। তবে সাধারণ মানুষেরা মনে করছেন করোনার লকডাউন পুরোপুরি উঠিয়ে দেয়া না হলে মুখ থুবড়ে পড়তে পারে গৌরবময় বাক্য মেড ইন জার্মানি।জার্মানের অর্থমন্ত্রী পিটার আর্টমাইয়ার এর মতে ১৯৯০ সালের পর এই প্রথম বারের মতো জার্মানির অর্থনীতি ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে।

তা’ই তিলে তিলে গড়ে ওঠা এই অর্থনীতি যেন ভেঙে না পড়ে তার জন্য করোনার বিধিনিষেধে আসতে পারে আরও শিথিলতা।বিশ্বে আক্রান্তের দিক দিয়ে জার্মানি সপ্তম স্থানে আছে। রবার্ট কখ ইনস্টিটিউট রোববার জানিয়েছে, দৈনিক নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ৬৬৭ জন বেড়ে মোট আক্রান্ত দাঁড়িয়েছে ১৬৯,২৮১ জনে। আর দৈনিক মৃত্যু ২৬ জন বেড়ে মোট মৃতের সংখ্যা হয়েছে ৭ হাজার ৩৯৫ জন।

কো’ভিড-১৯ সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষেত্রে জার্মানি প্রশংসা কুড়িয়েছিল। বৃহৎ পরিসরে কোভিড-১৯ পরীক্ষা করা এবং কার্যকর লকডাউনের কারণে ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলোর চাইতে জার্মানিতে ভাইরাসে মৃত্যু কম হয়েছে।কিন্তু গত বুধবার লকডাউনের বিধিনিষেধ অরো বেশি শিথিলের ঘোষণা দিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মের্কেল।

অ’বশ্য বিধিনিষেধ শিথিল করলেও সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি মাথায় রেখে কড়াকড়ি আবার চালু করার ব্যবস্থাও রেখেছেন মের্কেল। এ ব্যবস্থায় প্রতি ১ লাখ মানুষে সংক্রমণ ৫০ জনের উপরে চলে গেলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ফের কড়াকড়ি আরোপ করতে পারবে।

Facebook Comments
custom_html_banner1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *