শি’শুদের যেভাবে স’হজে কোরআন শি’ক্ষা দিবেন।

আম’রা সবসময় তাদেরকে ভয় দেখাই, জাহন্নামের হুমকি দেই অথচ খুব কমই তাদেরকে সাহস যোগাই অথবা ভালো আচরণের জন্য আল্লাহ’র ভালোবাসার কথা, পুরুষ্কারের কথা উল্লেখ করি। এমন পরিবেশে, শি’শুরা আতঙ্কগ্রস্ত ও ভীতু হিসাবে বেড়ে উঠে।

ফ’লে তাদের মধ্যে নেতীবাচক মানসিকতা জন্মায় এবং আত্মবিশ্বা’সের ঘাটতি দেখা দেয় এবং তারা তাদের বিশ্বা’সের প্রতি নিরুৎসাহিত হয়ে পড়ে। শিক্ষকরা সাধারণত কুরআনের শেষ অধ্যায় থেকে (ত্রিশ পারা) শি’শুদের পড়ানো শুরু করে।এই অধ্যায় ছোট ছোট সূরা সম্বলিত যেগুলো ওহী আসার প্রাথমিক পর্যায়ে ম’ক্কায় নাযিল হয়। মূলত কুরাইশ গোত্রের বিপথগামী, অহংকারী এবং অ’ত্যাচারী পৌত্তলিক নেতাদের (আবু জেহেল, আবু লাহাব) উদ্দেশ্যে এই সূরা গুলো নাযিল হয়েছিলো।

তা’ছাড়া যারা মু’সলমানদের অ’ত্যাচার করছিলো, মু’সলমানদের মধ্যে থেকে কয়েকজনকে হ’ত্যা করেছিলো, নবীজী (সাঃ)কে হ’ত্যার পরিকল্পনা করছিলো এবং বিশ্বা’সীদের ধ্বংস করতে যু’দ্ধ বাধিয়ে ছিলো-কুরআন নাযিলের সূচনার অধ্যায়গুলো মুলত তাদের উদ্দেশ্যেই।এই সূরা গুলো এসব অ’ত্যাচারীদের তাদের হুশ/জ্ঞান ফিরিয়ে আনার জন্য ছিলো। এদিকে আয়াতের দৃঢ় কথাগুলো তাদের কানে বজ্রধ্বনি হিসাবে কাজ করতো কারণ আয়াতগুলো ভয়ানক সতর্কবার্তা সম্বলিত ছিলো।

যে’মন নিচের আয়াতগুলো- “আবু লাহাবের হস্তদ্বয় ধ্বংস হোক এবং ধ্বংস হোক সে নিজে” (সূরা লাহাব, ১) “প্রত্যেক পশ্চাতে ও সম্মুখে পরনিন্দাকারীর দুর্ভোগ” (সূরা হুমাজাহ, ১) “আপনার কাছে আচ্ছন্নকারী কেয়ামতের বৃত্তান্ত পৌঁছেছে কি? অনেক মুখমন্ডল সেদিন হবে লা’ঞ্ছিত, ক্লিষ্ট, ক্লান্ত।তারা জ্বলন্ত আ’গুনে পতিত হবে। তাদেরকে ফুটন্ত নহর থেকে পান করানো হবে।

কন্ট’কপূর্ণ ঝাড় ব্যতীত তাদের জন্যে কোন খাদ্য নেই” (সূরা গাসিয়া, ১-৬) “যারা মাপে কম করে, তাদের জন্যে দুর্ভোগ (সূরা মুতাফফিফিন, ১) “বলুন, হে কাফেরকূল” (সূরা কাফিরুন, ১) “যখন পৃথিবী তার কম্পনে প্রকম্পিত হবে” (সূরা যিলযাল, ১) এটা খুবই দুঃখজনক যে এসব কঠিন বার্তা কোমলমতি শি’শুদের উদ্দ্যেশে নাযিল না হলেও এগুলোই শি’শুদের সর্বপ্রথম শিখানো হয়। হ্যা, প্রথমেই এ সূরাগুলো শিখানোর একটা কারণ হচ্ছে এগুলো ছোট এবং সহ’জে মুখস্ত করা যায়।তবুও শি’শুদের এ বয়সে জাহান্নাম ও শা’স্তির ভয় দেখানোর বদলে আমাদের উচিত তাদেরকে আল্লাহর ভালোবাসা, মা-বাবার দয়া এবং জান্নাতের সৌন্দর্য প্রভৃতি বিষয়ে বুঝানো।

এ’র ফলে শি’শুকাল থেকে তাদের মনে নিরাপত্তার অনুভুতি, ভালোবাসা, দয়া, কোমলতা, মহত্ত্ববোধ, উদারতা এবং সহানুভুতি প্রভৃতি বৈশিষ্ট্যগুলো ধীরে ধীরে প্রবেশ করবে। আল্লাহর ভালোবাসা, দয়া, মমতা, ক্ষমাশীলতা, ধৈর্যশীলতা এবং উদারতা ইত্যাদি আল্লাহর সুন্দর গুণাবলীগুলোর শিক্ষার মধ্য দিয়েই শি’শুদের প্রথম পাঠ শুরু করা উচিত।

Facebook Comments
custom_html_banner1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *