স’ন্তানদের আ’দর করতে না পারায় লুকিয়ে লুকিয়ে কাঁ’দেন চিকিৎসক রো’কসানা।

বাংলাদেশে ক’রোনাভা’ইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্তের পর মূলত চিকিৎসকদের করোনাযুদ্ধ শুরু হয়। কিন্তু আগে থেকেই করোনা নিয়ে কাজ শুরু করেন অনেক চিকিৎসক।

য’খন চীনে করোনাভাইরাস ধরা পড়ে তখন থেকে মূলত কাজ শুরু। আগাম প্রস্তুতি হিসেবে বাংলাদেশি চিকিৎসকদের মধ্যে যাদের যুক্ত করা হয়েছিল তাদের একজন চিকিৎসক রোকসানা ওয়াহিদ রাহী।চিকিৎসক রোকসানা বলেন, এর মধ্যে শাশুড়ির ডায়াবেটিস ও প্রেসার বেড়ে শারীরিক অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। তাকে সিলেটের একটি হাসপাতালে নেয়া হয়। আমরা স্বামী-স্ত্রী করোনার নমুনা দেই। আমাদের দুইজনের কারও কাছে যাওয়া নিষেধ। জীবনে এমন খারাপ সময় কখনও আসেনি।

আ’মরা আমাদের সবার নমুনা পরীক্ষার করব সিদ্ধান্ত নিলাম। কারণ এই সময়ে শাশুড়ির কাছ থেকে দূরে থাকা যায় না। রিপোর্ট নেগেটিভ আসলে কাছে যাব সেই অপেক্ষায় ছিলাম। এর মধ্যে তিনি মারা গেলেন।পরিবারের দুইজন মা চলে গেলেন এক মাসের ব্যবধানে। একটুও পাশে থাকতে পারিনি তাদের। আমার স্বামীকে জীবনে এতটা ভেঙে পড়তে দেখিনি।

স’ন্তানরা দাদি-নানি বলে কাঁদতে শুরু করল। আমার মনে হলো জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছি করোনাকালে। নিজেকে সামলাতে পারছিলাম না। স্বামী স্ত্রী দুইজন পাশাপাশি। চুপচাপ বসে থাকি, কেউ কাউকে কিছু বলি না।মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ডা. তউহীদ আহমদ কল্লোল বলেন, চিকিৎসক রোকসানা দায়িত্ববান এবং কাজপ্রিয় মানুষ। আসলে কঠিন সময় পার করছেন তিনি।

এ’কটার পর একটা বিপদ তার পেছনে লেগেই আছে। মা-শাশুড়িকে হারিয়েছেন। নিজেও অসুস্থ ছিলেন কয়েকদিন। এতকিছুর পরও করোনার দুর্যোগে রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। চিকিৎসক রোকসানা বাস্তবে দেশপ্রেমিক এক যোদ্ধা।

Facebook Comments
custom_html_banner1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *