স’রকার ফি ছা’ড় দিলে বা’ড়িভাড়া মওকুফ ক’রবেন বাড়িওয়ালারা?

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র, একাধিক ভাড়াটিয়া, বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়া পরিষদসহ সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বি’ষয়টি নিয়ে কথা বললেও কোনো সমাধান মেলেনি। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ভাড়াটিয়া ও বাড়ির মালিক দুই পক্ষেরই গ্রহণযোগ্য যুক্তি রয়েছে। ক’রোনার এই ম’হামা’রির সময়ে বেশির ভাগ ভাড়াটিয়ার কোনো আয়-রোজগার নেই।

অ’নেককে ত্রাণের জন্য হাত পাততে হচ্ছে।এ অবস্থায় বাড়িভাড়া পরিশোধ করা তাঁদের পক্ষে একেবারেই অসম্ভব। অন্যদিকে এমন অনেক বাড়িওয়ালা আছেন যাঁদের আয়ের একমাত্র উৎস বাড়িভাড়া। অনেক বাড়িওয়ালার কাঁধে আছে বাড়ি নির্মাণের সময় নেওয়া ঋ’ণের বোঝা।মিরপুরের রূপনগর এলাকার ৩০/ক সড়কের ১/১ নম্বর বাড়িতে ভাড়া থাকেন এস এম ইমন নামের এক ব্যক্তি।

বা’ড়ির মালিক খোকন বসবাস করেন অন্যত্র অভিজাত এলাকায়। বাড়ির ভাড়া আদায় করেন কেয়ারটেকার। ভাড়াটিয়া ইমন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অন্য সময়ে ভাড়া দেরিতে দিলেও কিছু বলেননি; তবে এবার বাড়ির কেয়ারটেকার নোটিশ দিয়ে গেছেন ১ তারিখের মধ্যে ভাড়ার টাকা পরিশোধ করতে হবে। অন্যথায় বাড়ি ছেড়ে দিতে হবে।

কে’য়ারটেকার পরদিন এসে জানান, বাড়িভাড়া আদায় করতে না পারলে তার বেতন বন্ধ।’পুরান ঢাকার জে এন সাহা সড়কের ৭/২ নম্বর বাড়ির একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকেন মামুনুর রশিদ। গত মাসের ভাড়া দিতে পারেননি। বাড়ির মালিক ভাড়ার জন্য চা’পাচা’পি করছেন। ভাড়াটিয়ার স্ত্রী মুক্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা বাড়ির মালিককে অনুরোধ করে বলেছি, গত মাসের বেতন পাইনি ভাড়া দেব কিভাবে?’ মালিক বলেছেন, এই ভাড়ার টাকায় আমার সংসার চলে। তাই ভাড়া দিতেই হবে। নইলে বাসা ছেড়ে দিন।’

মিরপুর-১২ নম্বর সেকশনের কালশী সড়কের বাড়ির মালিক ইউসুফ হোসেন তুহিন বলেন, ‘ঢাকা শহরের অধিকাংশ বাড়ির মালিকই বাড়িভাড়ার টাকায় তাঁদের সংসার চালান। আবার বাড়ি নির্মাণকালে নেওয়া ঋ’ণের কিস্তিও পরিশোধ করতে হয়। তার পরও আমরা মানবিক কারণে বাড়িভাড়া মওকুফ বা অর্ধেক নিতে রাজি আছি।

সে ক্ষে’ত্রে স’রকার ব্যাংকঋ’ণের কিস্তি, ইউটিলিটি বিল ও সিটি করপোরেশনের পাওনাদির বি’ষয়ে সহানুভূতিশীল হলে বাড়িওয়ালাদের পক্ষেও মানবিক হওয়া সহজ হবে।’মিরপুর সেনপাড়া এলাকার বাড়ির মালিক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘চাকরি জীবনের সব সঞ্চয় দিয়ে বাড়ি করেছি। বাড়ি ভাড়া দিয়ে সংসার চলে। ভাড়া না পেলে আমি চলব কিভাবে।’

ডিএ’সিনসির মেয়র আতিকুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাড়িভাড়া মওকুফের বি’ষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বি’ষয়টি খুবই জটিল ও গভীর। ভাড়াটিয়ারা কঠিন সমস্যায় রয়েছে। আবার অনেক বাড়িওয়ালাকেও চলতে হয় বাড়িভাড়ার টাকায়। তাই সব দিক ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

Facebook Comments
custom_html_banner1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *