৯১ ব’ছরে যে মসজিদে এক মিনিটের জন্যও থামেনি প’বিত্র কো’রআন তেলাওয়াত….

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী নওয়াব শাহী জামে মসজিদে গত ৯১ বছরের মধ্যে এক মিনিটের জন্যও থামেনি কোরআন তেলাওয়াত।

দীর্ঘ ৯১ বছর যাবৎ সার্বক্ষনিকভাবে কোরআন তেলাওয়াত করা হচ্ছে এই মসজিদে। যা ইতিহাসে একটি বিরল ঘটনা।

প্রতিদিন দেশ-বিদেশের বহু মানুষ আসেন এ মসজিদটি দেখতে কোরআন তেলাওয়াত শুনতে ও নামাজ পড়তে।

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীর এ মসজিদে ১৯২৭ সাল থেকে একটানা ২৪ ঘণ্টা কোরআন তেলাওয়াত চলছে নিয়ম তান্ত্রিক ভাবে।

এক মিনিটের জন্যও বন্ধ হয়নি তেলাওয়াত। কর্তৃপক্ষের নিযুক্ত সাতজন কারি প্রতি দুই ঘণ্টা পরপর এই মসজিদে ধারাবাহিকভাবে কোরআন তেলাওয়াত করে থাকেন।

ধনবাড়ীর বিস্ময় জাগানিয়া এ মসজিদের নাম নওয়াব শাহী জামে মসজিদ। ৭০০ বছরের পুরোনো এ মসজিদটি ঐতিহ্য ও কালের সাক্ষী হয়ে রয়েছে এ অঞ্চলে।

জানা যায়, সেলজুক তুর্কি বংশের ইসপিঞ্জার খাঁ ও মনোয়ার খাঁ নামে দুই ভাই ১৬ শতাব্দীতে ঐতিহ্যবাহী এক কক্ষ বিশিষ্ট একটি মসজিদ নির্মাণ করেন।

জনশ্রুতিতে রয়েছে, সম্রাট আকবরের সময় এই দুই ভাই ধনবাড়ীর অ ত্যা চা রী জমিদারকে পরাজিত করার পর এ অ’ঞ্চলের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন এবং এ মসজিদটি নির্মাণ করেন।

নবাব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী প্রায় ১১৫ বছর আগে এ মসজিদটি স’ম্প্রসারণ করে আধুনিক রূপ দেন।

তিনি বাংলাভাষার প্রথম প্রস্তাবক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও যুক্ত বাংলার প্রথম মু’খ্যমন্ত্রী ছিলেন।নওয়াব শাহী জামে মসজিদ সংস্কারের আগে মসজিদটির দৈর্ঘ্য ছিল ১৩.৭২ মিটার (৪৫ ফুট)।

প্রস্থ ছিল ৪.৫৭ মিটার (১৫ ফুট)। সংস্কার করে মসজিদটি বর্গাকৃতির ও তিনগম্বুজ বিশিষ্ট মুঘল স্থাপত্যের বৈসাদৃশ্যপূর্ণ করা হয়েছে।

মোগল স্থাপত্য রীতিতে তৈরি এই মসজিদের মোজাইক গুলো এবং মেঝের মার্বেল পাথরগুলো নিপুণভাবে কারুকার্যমণ্ডিত।

সংস্কারের কারণে প্রাচীনত্ব কিছুটা বিলীন হলেও মসজিদের সৌন্দর্য শোভা অনেক বেড়েছে।মুঘল আমলে ব্য’বহৃত ৩টি ঝাড় বাতিও রয়েছে। সুপ্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী এ মসজিদে একসঙ্গে ২০০ মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রয়েছে।

নওয়াব শাহী জামে মসজিদের পাশেই রয়েছে শান বাঁধানো ঘাট ও কবরস্থান। যেখানে দা ফ ন করা হয়েছে নওয়াব বাহাদুর সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরীকে।

তার ও’য়াকফকৃত সম্পদের মাধ্যমে মসজিদ, পার্শ্ববর্তী মাদ্রাসা ও ঈদগাহ পরিচালিত হয়।পূর্বদিকের ৩টি প্রবেশ পথ বরাবর পশ্চিমের দেয়ালে ৩টি মিহরাব রয়েছে।

কেন্দ্রীয় মিহরাবটির অষ্টভুজাকারের, দুই পাশে রয়েছে বহু খাঁজবিশিষ্ট খিলান।

তাছাড়াও সেটিতে ফুলের রকমারি নকশা রয়েছে। অন্য দু’টি মিহরাবও বহু খাঁজবিশিষ্ট তবে কারুকার্যহীন খিলানযোগে গঠিত।

প্রায় ৩০ বিঘা জমির ওপর শান বাঁধানো ঘাটের বিশাল একটি দীঘি রয়েছে।

তাতে মুসল্লিরা অজু করেন। তাছাড়াও মসজিদের আশপাশে সু’প্রশস্ত ও খোলামেলা অনেক জায়গা রয়েছে। যা দর্শনার্থীদের মনে বাড়তি আকর্ষণ সৃষ্টি করে।

Facebook Comments
custom_html_banner1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *